ধারাবাহিক রম্য রচনায় সংযুক্তা দত্ত – ২০

আগের পর্বেই অনলাইন নাচের গল্প শুরু করেছিলাম। সেই লকডাইন কালের কথা। সেইসময় নাচের ভিডিও করতে করতে বেশ কিছু মজার ঘটনা ঘটেছিল।
তখন আমি সদ্য ড্রয়িং রুমের চৌহদ্দি পেড়িয়ে প্রোমোশন নিয়ে স্টেজ করেছি ছাদকে। মনের আনন্দে সেই স্টেজে নেচে যাচ্ছি আমার একছত্র আধিপত্য কায়েম করে ।
এমনই একদিনে আমি ও আমার টিম ( মানে ভিডিওগ্রাফার কাম মিউসিক এ্যারেন্জার আমার মেয়ে) ছাদে একটি নাচ তুলছি এমন সময় একটি পরিবার ছাদে বৈকালিক ভ্রমণে এলেন। ফ্ল্যাটবাড়ি তাই ছাদে সবার সমানাধিকার আর এটি সেই সময়ের ঘটনা যখন ছাদটাই বেড়ানোর জায়গা। এ তো বলাই বাহুল্য যে তাদের দেখে নাচ থামিয়ে বসে আছি। এবার হয়েছে কী নাচটা আর অল্পই বাকী, ওটুকু শেষ না হলে পরেরদিন আবার সাজগোজ করে ছাদে আসতে হবে। আমার মেয়ে আমাকে পেপ টক দিতে লাগল, ” মা, ফেসবুকে তোমার নাচ কত লোকে দেখে, কতজন ইউটিউবে দেখে, তুমি ভেবে নাও স্টেজ শো করছ।ওরা দেখে দেখুক, তুমি নাচো।” আমার একটু কিন্তু কিন্তু হচ্ছিল তবে ওই আবার পরেরদিন ক্লাস শেষ করে আবার সাজতে হবে এই ভয়ে নাচ শুরু করলাম। সিনটা ভাবুন, ছাদের একদিকে আমি নাচছি, আরেকদিকে পুরো পরিবার হাঁটছে এবং আড়চোখে নাচ দেখছে। আমিও খালি ওইদিকে তাকিয়ে ফেলছি আর নাচ ভুল হয়ে যাচ্ছে। নিজেকে বাসন্তী আর ওদের গব্বর মনে হচ্ছিল যদিও নিপাট ভালোমানুষ পরিবার। আসলে এই টিচারকে ছাদে নাচতে দেখে না পারছিল হাঁটতে না পারছিল হাসতে।কোনোক্রমে শেষ করেছিলাম নাচটা। নিজেকে একটাই কথা বললাম, তুমি শিল্পী যে কোন পরিস্থিতিতে ভাবো ‘ দ্য শো মাস্ট গো ওন’। তখন এবং আজও এই কথাটাই সবচেয়ে বড় সত্যি।