সম্পাদকীয়

অনলাইন ম্যাগাজিন: কিছু স্বপ্ন, কিছু কথা ও ভবিষ্যৎ
আজ অনলাইন ম্যাগাজিনের বৈশিষ্ট্য, ভবিষ্যৎ ও জনপ্রিয়তার ওপর নিজের মতো করে কিছু আলোকপাত করার চেষ্টা করছি।
ছোটবেলায় পড়াশুনোর পাশাপাশি শুকতারা, আনন্দমেলার সাথে ছিলো সখ্যতা। পরবর্তীতে বিভিন্ন পূজাসংখ্যার সাথেও রয়ে গেছে সেই অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক।
এরপর এলো ফেসবুক। সেখানে অনেকেই লেখেন, সেসব পড়তে পড়তে লেখার অভ্যেসটাও গড়ে উঠলো। খাতায় কলমে যা লেখা হতো, তার পাঠক একজন, আমার মা। ফেসবুকে লিখলাম যখন- সে লেখা পৌঁছে গেলো অনেকের কাছে। সেইই প্রথম অনলাইনে লেখা। সকল গুণীজনের সান্নিধ্য পেতে, তাঁদের ভাবনায়, চিন্তনে, মননে সমৃদ্ধ হতে চেয়ে তৈরি হলো স্বপ্নের অনলাইন ম্যাগাজিন।
মোটামুটি সব অনলাইন ম্যাগাজিনের উৎপত্তিসংক্রান্ত ইতিহাসটা এরকমই।
অনলাইন পত্রিকার আবির্ভাবের সাথে সাথে কাগজে ছাপা ম্যাগাজিনের নতুন পরিচয় হলো অফলাইন ম্যাগাজিন। অনেক অফলাইন ম্যাগাজিন টাকা নিয়ে লেখা ছেপে থাকে। অনলাইন ম্যাগাজিন প্রকাশে লেখকের কাছ থেকে টাকা নেবার কোন প্রয়োজন নেই। কাগজে ছাপা সাহিত্য সংরক্ষণ করা সহজ ও পাঠও সুবিধাজনক মনে হলেও একটা অনলাইন ম্যাগাজিন সম্পর্কে জানতে “www.” ই যথেষ্ট। হ্যাঁ, পিডিএফ করে প্রিন্ট করে নেওয়ার সুবিধে তো আছেই। কিন্তু সাহিত্যের বিকাশ যেখানে উদ্দেশ্য, দেশ যেখানে ডিজিটাল হচ্ছে, সেখানে সাহিত্য কেন ডিজিটাল হবে না? তারপর— আজকাল বেশ কিছু সরকারী দপ্তরের ই.মেলের নীচে লেখা থাকে— অত্যন্ত প্রয়োজন না হলে ই.মেইলটি যেন প্রিন্ট করা না হয়। পরিবেশ রক্ষার্থে এও একটা বিশেষ ধাপ। The fun they had… আইজ্যাক আসিমভের এ লেখা তো আমরা সবাই জানি। হ্যাঁ, এমন দিন তো এসেই গেছে, কাগজ তৈরির জন্য আর বৃক্ষনিধন সম্ভব নয়। অথচ অনলাইন ম্যাগাজিন বিনামূল্যে পৌঁছে যাচ্ছে হাজার হাজার পাঠকের কাছে। অনলাইন ম্যাগাজিন যাঁরা চালান— তাঁদের কাছে সাহিত্য কোনোভাবেই পণ্য নয়। সম্পূর্ণটাই সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা থেকে। নিষ্ঠার সাথে যথেষ্ট শ্রম দিলে তবেই একটি অনলাইন পত্রিকা প্রকাশ করা সম্ভব। লেখা গ্রহণ, এডিটিং, অনলাইন পোর্টালকে সাজানো, ওয়েবসাইট ডোমেইন কেনার জন্য খরচ, সর্বোপরি নিজেদের মূল্যবান সময় খরচ করে সম্পাদক ও তাঁর সহযোগীবৃন্দের সহায়তায় একটি অনলাইন পত্রিকা প্রকাশ করা সম্ভব।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল প্রতিষ্ঠিত অফলাইন ম্যাগাজিনগুলোও তাদের অনলাইন পোর্টাল খুলেছে অস্তিত্ব রক্ষার্থে। পৃথিবীর বেশিরভাগ জার্ণালগুলোও কিন্তু অনলাইন।
আমরা বোটানিক্যাল গার্ডেনের হার্বেরিয়াম সম্পর্কে জানি। বর্তমানে হার্বেরিয়ামও ডিজিটাল হচ্ছে। যার অ্যাকসেস রেট অন্যান্য হারবেরিয়ামের চেয়ে বেশি। আজ কোন গাছ চিনতে অসুবিধা হলে নিকটবর্তী হারবেরিয়াম বা বোটানিক্যাল গার্ডেনে না গিয়ে মানুষ লণ্ডনে অবস্থিত কিউ বা হার্ভার্ড এর ডিজিটাল হার্বেরিয়ামের দ্বারস্থ হচ্ছে। ডিকশনারি কেউ খোলে না। গুগল ট্রান্সলেটর এ বিশ্বাস রাখে। পৃথিবীর বৃহত্তম ডিকশনারিটি হল Woori Mal Saem, 2017 একটি কোরিয়ান ডিকশনারি, যা অনলাইন। ভারতীয় ভাষায় সবচেয়ে বড় ডিকশোনারি Sorkuvai যা একটি তামিল অনলাইন ডিকশনারি। ইংরেজিতেও সবচেয়ে বড় ডিকশনারিটি অনলাইন, Wiktionary….
তাই বলছি: আমরা একটা ট্রানজিশন পিরিয়ডের মধ্য দিয়ে চলেছি। অফলাইন ও অনলাইন ম্যাগাজিন— আমাদের দুটোতেই ব্যালান্স করে চলতে হবে। পুরোনোকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুনকে স্বাগত জানাতে হয়, আপন করে, অভ্যাসে জড়াতে হয় যে। সবশেষে বলবো, বইমেলা গুলোতেও যদি অনলাইন ম্যাগাজিন কর্ণার থাকে তাহলে ভালো হয়। অনলাইন পত্রিকা হয়ে উঠুক প্রতিটি পাঠকের দিনযাপনের একটা প্রগাঢ় পদ্ধতি।
সায়ন্তন ধর