T3 ।। কবিতা পার্বণ ।। বিশেষ সংখ্যায় শিপ্রা দে

১| ঐ বুঝি শীত এলো
এক একটা খোলা জানলা কপাট গুলো বন্ধ হবে
শুকনো মুখে চামড়া টানে জানলা ফাঁকে নীরব রবে।
শীত প্রাক্কালে সেই সকালে জানলায় দেখি পড়তে বসে
আমলকিতে লাগে কাঁপন নিমের পাতা পড়ল খসে।
হিমেল বায়ু বইছে গাছে নীল আকাশে মেঘেরা হাসে
ঝরছে যত হলুদ পাতা জড়ো হচ্ছে ঘরের পাশে।
ধানের শীষে রৌদ্র মিশে চাষির চোখে খুশির নূর
ধুলোয় মাখা কলাপাতায় টুপটাপ যে হচ্ছে সুর।
পুকুর জলে খেলছে তলে হাঁসের জোড়া ডুবিয়ে ঠোঁট
আসছে ধেয়ে ছোট্ট মেয়ে খেলতে গিয়ে লাগলো চোট।
নরেন গাছা খেজুর গাছে বাঁধছে হাঁড়ি গানের সুরে
বুড়ি ঠাকুমা নরম রোদে উঠোনে কাশে শীত চাদরে।
ছোট্ট ছেলে উঠোন জুড়ে রোদ পোহায় তেলের গায়ে
কাঠ জ্বালিয়ে রান্না করে ঘরের কোণে কাকিমা মায়ে।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে আছে ধান বোঝাই গরুর গাড়ি
কোথায় কার বাড়ি যে যাবে খুঁজে পায় না রুনুর বাড়ি।
আঙুল দিয়ে দেখাই পথ পাশে দুটোর বাড়ির পরে
কখন যেন সকাল কাটে কান মলা যে খেলাম জোরে ।
পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে মা পড়াশোনার নেই বালাই?
মুখ দিয়ে যে রা-কাটি না এখন আমি কোথা পালাই
সত্যি কথা বলছি মাগো লাগছে ভালো দেখতে বেশ
সন্ধ্যা হলে পড়বো ঠিক বলে দিলাম এবার শেষ।
২| এক গাঁয়ের শীতের সকাল
কুয়াশার ভোর খুলে দেখ দোর
সবুজ মাঠে,ঘাসে
আতপ কিরণ ঘোমটা মাথায়
মিষ্টি হাসি হাসে।
লেপের তলে বুড়ো বুড়ি
হাড়কাঁপানি শীতে
শুয়ে শুয়ে মারে উঁকি
চায়ে চুমুক দিতে।
বেনে বউ তাঁর চাদর জড়ায়
কুয়াশা ভোর নিয়ে
কাঁপতে থাকে শিরশিরিয়ে
উঠোন ঝাড়ু দিয়ে।
ছোট্ট ছেলে কাঁদতে থাকে
ছুটে আসে মা যে
উলের টুপি পায়ে মোজা
সোয়েটার গায় সাজে।
খেজুর গাছে বাঁধা আছে
গাছির রসের হাঁড়ি
গাঁদা ফুলের রঙ লেগেছে
সবার বাড়ি বাড়ি।
মা কাকিমা পিঠে বানায়
উঠোন কোণে বসে
ছেলেপিলে আগুন পোহায়
চুমুক কাঁচা রসে।
ফুলকপি আর বাঁধাকপি
হাসছে সব্জি ক্ষেতে
সজনে ফুলের ছড়াছড়ি
মেয়ে কুড়োয় মেতে।
স্নিগ্ধ শীতল হিমেল বায়ু
সরিষার খেত দুলে
চুপিচুপি কুজ্ঝটিকা
মটরশুটির ফুলে।