কাব্যক্রমে শিপ্রা দে

১| যত্ন করে রাখো

নদীর তীরে মন জুড়ানো
গ্রীষ্ম বেলার সাঁঝে
উল্লাসে বুক উঠত ভরে
সবুজ বনের মাঝে।
দুপুর বেলা দল বেধে সব
নাইতে যেত ঘাটে
গাছের ছায়ায় খেলত বসে
ঘুরত বাটে বাটে।
চাঁদের পাটি উঠোন জুড়ে
গল্প শোনা সাথে
বিকেল বেলার ফুলগুলো সব
সুবাস ছড়ায় রাতে।
নিষ্প্রভ আজ চাঁদের আলো
নিয়ন আলোর মাঝে
সাঁঝের প্রদীপ আর জ্বলে না
চুনি লাইট সাজে।
প্রকৃতিকে ধ্বংস করে
কিছু স্বার্থবাদী
ছুটছে ওরা বিনাশ পথে
ওঁরাই অপরাধী।
মাটি,আলো,পাহাড় ,নদী
সব হয়েছে নষ্ট
বসুন্ধরার বুকে আজকে
ভীষণ রকম কষ্ট।
এই পৃথিবীর ফুসফুসে আজ
অক্সিজেনের অভাব
দুষ্কৃতীরা তাও ছাড়েনা
হিংস্র কুটিল স্বভাব।
বৈরিতা নয় বন্ধু করে
ভালোবেসে তাকে
যত্ন করে আকড়ে রাখো
যেমন নিজের মাকে।

২| সুজন

যান্ত্রিকতার শহর ছেড়ে চলনা সখা বিজনে
দে’ পাল তুলে দে’রে মাঝি নোঙর খোলা মাস্তুলে
চাঁদনি রাতের জোছনা মেখে চলনা কোথাও দুজনে।
স্বপ্ন দেশে ভেসে যাবো নীল আকাশের নির্জনে
পাশাপাশি বসব দুজন সবুজ শ্যামল আঁচলে
যান্ত্রিকতার শহর ছেড়ে চলনা সখা বিজনে।
সাক্ষী থাকবে রাতের তারা মাতাল হাওয়ায় একমনে
গাইবো দুজন একই সুরে দিনমনির অস্তাচলে
চাঁদনি রাতের জোছনা মেখে চলনা কোথাও দুজনে।
ছলাৎ ছলাৎ ঢেউয়ের জলে কাঁপন দেবে কনকনে
হাতের পরে হাতটি রেখে পা ডুবিয়ে সেই জলে
যান্ত্রিকতার শহর ছেড়ে চলনা সখা বিজনে।
চলনা সুজন যাইরে চলে রূপকথার ঐ দূর বনে
সোনার কাঠি ছুঁয়ে দেবো আজব ঢঙের কৌশলে
চাঁদনি রাতের জোছনা মেখে চলনা কোথাও দুজনে।
না হয় হবো দ্বীপবাসিনী বনবীথিকার মাঝখানে
কাকলিতে মুখর হবে খতিয়ান নেই’রে ছলে।
যান্ত্রিকতার শহর ছেড়ে চলনা সখা বিজনে
চাঁদনি রাতের জোছনা মেখে চলনা কোথাও দুজনে।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।