সম্পাদকীয়

*বসন্ত: শুষ্কতার ঋতু, উৎসবের ঋতু*
“একে তো ফাগুন মাস দারুন
এ সময়
লেগেছে বিষম চোট কি
জানে কি হয়”
ফাল্গুন চৈত্র বসন্তকাল। শুষ্কতা বসন্তের একটা বড় পরিচয়, বসন্তের শুষ্কতায় নব জীবনের আগমন ঘটে। ঠিক যেমন একজন মায়ের যন্ত্রণা একটি জীবনকে পৃথিবীর আলো দেখায় তেমনি। আমরা ভাবি গাছের আনন্দ হলে ফুল ফোটে। বৈজ্ঞানিক ভাবে কথাটা তা নয়, গাছ চরম কষ্টের মধ্যে ফুল ফুটিয়ে তার আগামী কে সুনিশ্চিত করতে চায়। একে Stress বলে। এই Stress সমৃদ্ধ কাল হল বসন্ত। আমাদের দেশের সবচেয়ে বেশী গাছ পর্ণমোচী। অর্থাৎ তারা শীত ও বসন্তের শুরুতে পাতা ঝরিয়ে দেয় শুধুমাত্র এই কষ্টের জন্য। ওরা জল পায়না মাটির নীচে, এদিকে পাতা থাকলে বাষ্পমোচন হয়ে যেটুকু জল পায় তাও বেরিয়ে যায়। ওদের জীবনে মৃত্যু আশঙ্কা পেয়ে বসে। তাই তারা চেষ্টা করে যাতে তার পরবর্তী প্রজন্মকে এ ধরনীতে রেখে যেতে পারে। তাই সে ফুল ফোটায়। আমরাও ঠিক তেমনই। শীত ও শীত শেষের রুক্ষতায় আমাদের জীবনে একঘেয়েমি আসে। বসন্তের নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া, মৃদুমন্দ দখিনা বাতাস আমাদের মনকে উদাস করে দেয়। সেই উদাসী মনকে আনন্দ দিতেই আমরা দোলের রঙীন খেলায় মেতে উঠি। পৌরাণিক যুগ দেখলে দেখা যাবে এই দোল খেলার পরেই কৃষ্ণ রাধাকে রঙ মাখিয়ে সেই যে চলে যায়, আর ফিরে আসে না। অর্থাৎ আমাদের অতীত ও ভবিষ্যৎ দুইই কষ্টে জর্জরিত হতেই পারে। সেই কষ্ট সাময়িক ভোলার জন্যই রংখেলা। কোকিল পাপিয়া ইস্টিকুটুমের কনসার্টের মাঝেও ঘুঘুপাখির বিষণ্ণ ডাক মন কে উদাস করতে বাধ্য। তাই গাছেরা যখন নিজেদের কষ্ট ভুলে আমাদের রঙবেরঙের ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়, তখন আমরাও ভূত-ভবিষ্যত ভুলে আনন্দে মনকে রঙীন করে তুলি। তাই –
পলাশের গেরুয়া
মাঁদার, শিমূলের নির্ভেজাল লাল
পারুলের পাটকেল
নীলাম্বরমের নীল
নীলকন্ঠের বেগুনী
সেগুনের ঝরাপাতার বাদামী
জারুলের কচি পাতার তামাটে
চির সবুজ দেবদারুর গাঢ় সবুজ
কচি কলাপাতার হালকা সবুজ
চন্দ্রপ্রভার হলুদ
ক্যালিয়েন্ড্রার গোলাপি লাল
বোগেনভেলিয়ার নানা রঙ
ছড়িয়ে দিলাম তোমাদের জন্য। রাঙিয়ে নাও মন।
উৎসবের রঙীন শুভেচ্ছান্তে সায়ন্তন।
সায়ন্তন ধর