কবিতায় বলরুমে সুজাতা দে

অভিশপ্ত অনুভব
বাবার প্রেমিকাকে আমি শ্রদ্ধা করি।
সদা হাসিমুখের বিদুষী মহিলাকে আমি প্রথম ফেসবুকের পাতায় প্রথম দেখেই তীব্র আকর্ষণ অনুভব করেছিলাম।
কুড়ি বছরের বড়ো প্রমিতাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতেই…।
চিবুক ছুঁয়ে ছাপোষা হলুদমাখা হাতের আশীর্বাদ
করা আমার মাকে কিন্তু আমি কম ভালোবাসিনা।
তবু্ও যেদিন প্রমিতা আমার নতুন ওঠা গোঁফে হাত বুলিয়ে বলেছিল-তোর বাবা কিন্তু তোর মতো সুন্দর গিটার বাজাতে পারেনা।
সেদিন ওই কথা শুনে আমি ভিতরে ভিতরে কেঁপে উঠেছিলাম।
দুপুরে বাবার নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে সৃষ্টির উন্মাদনা
লুকিয়ে দেখতে গিয়েই প্রমিতা মাসির কাছে ধরা পড়ে যাই।
আবিষ্কারের নেশায় সহকারীনির হাতে ছুঁয়ে যেত বাবার পুরুষালি হাত।
মেজরিং সিলিন্ডার থেকে নির্দিষ্ট মাপে দ্রবণ মেশানো হতো
কনিকাল ফ্লাস্কে, ফুটতো তীব্র বুদবুদ,উঠতো ধোঁয়া।
বাবার অনুপস্থিতিতে ল্যাবরেটরিতে একদিন ডাক দিল প্রমিতা মাসি।
বিজ্ঞানের আলো শেখানোর আছিলায়
বুদবুদ জাগিয়ে দিল আমার লজ্জানত শরীরে।
বাবাকে আমি শ্রদ্ধা করি খুব।
কোনোদিন বাবার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে না চেয়েও…
হে ভগবান, না চাইলেও একদিন
মানুষ কিভাবে যেন গোপন অভ্যাসের দাস হয়ে ওঠে!
সেদিনের অসমবয়সী পরকীয়ার
চুম্বক আকর্ষণ আজ শেষ।
নারী মনোহর পুরুষ হয়ে সদ্য বিবাহিতা নতুন বউয়ের কাছে আমাদের দাম্পত্যে আজ
খুঁজতে চাইছি শুধুই মাতৃস্নেহ!
হে স্বর্গবাসী জন্মদাতা-তুমিই বলো, তুমিতো জানো-
কোনোকিছুতেই তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে চাইনি কোনোদিন।
তবে কেন ;কেন-কার পাপে
নেমেছে চরম এই অভিশাপ!