কবিতায় স্বর্ণযুগে সুজাতা দে (গুচ্ছ কবিতা)

১) বিজ্ঞাপন
সাঁঝবাতি রূপ জোনাকি আর
এক আকাশ ভরা তারাদের
যে মিটিমিটি সাযুজ্য…
আমাদের ঝিম ধরা ;উষ্ণতাহীন
এই প্রেম অধ্যায়, ঠিক তেমন -ই।
দ্যাখো গ্রাম বাংলার মেঠো পথ
জানে তারা আর জোনাকের কথা..
যেমন আমি জানি তোমাকে।
শহুরে মানুষ জোনাকি আর তারাদের
ধবল প্রেম দেখে হয় মুগ্ধ।
রতি কথাদের ভোলানোর
প্রতিদিনের এই ব্যর্থতা ঢাকতে
নিজেদের অজান্তেই কখন
হয়ে যায় উন্মোচন…
আসক্তি নামে অসম কামজ সম্পর্কে!
নিজেদের অপারগতা ঢাকতে
নকল উল্লাসে আমরা আজ উদযাপন করি বিভিন্ন সময়ের বিবাহবার্ষিকীর প্রহসন…
কুড়ি বছরের পূর্তি বা পঁচিশ অথবা তিরিশে।
আহা, দ্যাখো কি সুন্দর সাজানো সংসারের এই বিজ্ঞাপন!
২) কবিতাযাপনে এসো
কবিতা আঁকছে দীর্ঘ শপথের মসৃণ এক জলের ছবি,
প্রবল লড়াই রাখছে জারি জানে কেবল সেই কবি।
কবিতা কখনো মনের আলো জড়িয়ে বাঁচতে শেখার পথ
ভ্রমণ পথের সঙ্গী হয়ে টানছে ভালো-বাসার রথ।
নিজের মতো বাঁচার লড়াই; ব্যথায় ডুবে কবিতা-ভাসি,
জলের নিচে উপত্যকায় মাছ নাবিকের মুচকি হাসি।
নারী-শরীর চাঁদের ছোঁয়ায় পোড়ায় ভাবায় কবিতা-খাতা;
বিশ্বদিবসে পড়ছো কবিতা; প্রতীক ছায়ার জীবন-পাতা।
সুখের দিনে ভুলেই থাকো; দু:খ-দিনেই কবিতা লেখা..
ফিরে দেখা হলুদ পাতায় অতীত দিনের স্মৃতি-রেখা।
বর্তমানের ঘটনা মালায় প্রতিচ্ছবির সামিয়ানা…
কবিতা-স্কেলে যাচ্ছে মাপা ন্যায়নীতি কেমন টানা।
ভবিষ্যতের আশার বাণী কবিতা ফসলে ভরছে খামার,
দুর্নীতি বা ন্যায়নীতি যাচ্ছে বোঝা তোমার-আমার।
তাইতো বলি; কবিতাকে – কেন ফেরাও উঁচু নাকে?
ছড়িয়ে আছে মুক্তা-মাণিক অসংখ্য ওই কবিতা বাঁকে।
প্রতিদিনের জীবধারায় কোথায় কবিতা খুঁজতে থাকো,
কবিতা খেয়ে আঁচিয়ে নিয়ে বাঁচার রসদ গুছিয়ে রাখো।
নাইবা হল কবিতা পড়া,কবিতা লেখা-বিশেষ দিনে।
প্রতিদিনের কবিতাপথে কবিতাযাপন নাওগো চিনে।
৩) নিপাট চাওয়া
চাইছি একটা উদাস দুপুর
তোমরা ধার দেবে কেউ?
ঘুঙুর পায়ে একতারা সুর
যাচ্ছে সরে দূর বহুদূর।
চাইছি একটা উদাস পুকুর
জলছবিতে তুলছে যে ঢেউ..।
পায়ের নুপূর চুড়ির ধ্বনি
মাজছে বাসন বৌদিমণি।
চাইছি একটা এজমালি রক
তর্কে মাতাল যৌবন ফেউ।
কিচির মিচির শালিক চড়াই
আম দুধের মিশেলে গড়াই।
চাইছি একটা উষ্ণতা প্রেম
গোপন এক হাতছানি ঢেউ।
ঠোঁট ছুঁয়ে ঠোঁট জলতরঙ্গ
পুলক দেহের জাদুরঙ্গ।
চাইছি এমন হাপুস খিদে
উলঙ্গতার পবিত্র রেশ।
এক জনমে সবটা পেলেই
থাকেনা আর ফেরার আবেশ।