সম্পাদকীয়

পৃথিবী একটাই
খুব জোর কাজ চলছে, পুড়ছে কয়লা, এনটিপিসি ফারাক্কায় তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ। সে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে দূর-দূরান্তে। শহরে, নগরে, গ্রামে, গঞ্জে। আলো জ্বালাতে হবে যে। রাতে? না না রাতে নয়, আর পঞ্চাশ বছর পর দিনেই জ্বালাতে হবে আলো, বায়ুমণ্ডলে প্রতিফলিত হবে না সূর্যের আকাশি রং। কালো ধোঁয়ার মলাটে ঢেকে যাবে। ইমন রাগ গাওয়ার সময় পশ্চিম আকাশে জ্বলজ্বল করবে না সন্ধ্যাতারা। মিটমিট করবেনা দূরের অ্যানড্রোমিডাস বা আমাদের মিল্কিওয়ের অর্বুদ, পদ্ম, খর্ব, নিখর্ব, মহাপদ্ম সংখ্যার তারারা। প্রাণীদের ধমনী শিরায় বইবেনা লাল রক্ত, গাছের সবুজ হারিয়ে যাবে ধূসরতায়। নদীর নীল জল তখন অতীত। এই ধূসর কালো অন্ধকার দূর করতে চাই আলো, চাই বিদ্যুৎ। তারই প্রস্তুতি চলছে। রাজধানীর উদ্দেশ্যে চলেছি, পদাতিক সবে পেরিয়েছে ফারাক্কা ব্যারেজ। নাইট মোডে লো শাটারস্পীডে ছবি তোলার শখ জাগলো। চলন্ত ট্রেন থেকে শাটারে আলতো চাপ। তারপর ছবির কথা কবির ভাষায় শোনা যাক …
“বাঁচার জন্য রুজিরোজগার,ধোঁওয়ায় ধূসর কালো,
তবু আজও রঙীন পৃথিবী রাতেও আলোয় আলো।
সেই আলোতে মৃত্যুপাখিটা, নখ যার খুব ধারালো,
ডানা ঝাপটিয়ে চুপিসাড়ে আসে সাঁতরে আঁধার কালো।”
তবে এতক্ষণ যা বললাম তা মানুষের বিজ্ঞানের হিসাব। প্রকৃতির বিজ্ঞান কিন্তু বলে মাত্র এক-দু’ মাসের লকডাউনে প্রকৃতি মানুষের বিজ্ঞানকে ভুল প্রমাণিত করে নিজেকে রিভাইভ করে নিয়েছিল, কিন্তু মানুষ তো মানুষই, তাই আবার সেই দূষণ, যুদ্ধ। মহাযুদ্ধের সাজ সাজ রব। তবু মনে রাখতে হবে, যতই চাঁদ মঙ্গলে পাড়ি জমানো হোক, পৃথিবী একটাই।
সায়ন্তন ধর