গদ্য কবিতায় সৌমেন দত্ত

বেঁচে থাকার লড়াই
কথার শহরে না-বলা কথার আঁকিবুকি,
চোখে পড়লেও পাশ কাটিয়ে যায় ব্যস্ত পথ,সব্যস্ত মুখ। মধ্যবিত্ত, বেকার ওরা জীবন জীবন খেলে প্রতিদিন,
ওরা রাজপোশাকি, খেলে মৃত্যু মৃত্যু প্রতিদিন।
মধ্যবিত্তদের স্বপ্নও মেপে দেখতে হয়,
নইলে ঝুলতে থাকে নিঃশ্বাস কারশেডে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে বাজার থলি,
জানে না কি ঠাঁই পাবে তাতে,
সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে পরের দিনের চিন্তা,
তার মাঝেও ঝোলে ঠোঁটের ফাঁকে মৃদু হাসি।
আমরা ভুলে যাই সব অভিমানী মুখের কথা,
স্বপ্নগুলো একটা বন্দর থেকে আরেকটা বন্দরে যাত্রা করে,
আমরা শুধু পালের হাওয়ায় নিজেকে খুঁজি।
প্রতিদিনের লড়াই, অন্নে, কর্মে, শয়নে,
তবুও অল্প হাসি রোজ বাঁচিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলি।
আর সম্পর্কের স্ফীতির ওজন মাপা চোখ ঐ হাসিতেই ডুবিয়ে দিই।
জানি না, “জীবন আর ফুলদানিতে পার্থক্য কোথায়,
অন্যের সাজানো, আর নিজেকে নিজে.., ”
তবুও চেষ্টা থেমে থাকে না।
চাকরি নেই, মুখ বুজে লড়াই,
ইন্টারভিউ আর ইন্টারভিউ, শিকে ছিঁড়বে কি না তাও জানা নেই, তবুও বাঁচিয়ে রাখা একটু হাসি।
রোদে পুড়ে পাখির ডানার শব্দে প্রাণ ফিরে পাওয়া জীবন, হারতে জানে না।
এলোমেলো রঙচটা এ শহর,
জানে না মুখ বোজা বুক পোড়াদের ইতিহাস, ক্লান্ত হয় না, চোখ ভেজে না,
সরল সমীকরণের জোয়ারে পা চালায়।
ওরা জানে, “সুখের পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে দুঃখের স্তূপের জমা সমীকরণে,”
লড়াই তবুও বুঝতেই পারে না, শুধু খেলে বেড়ায়,
দরজায় কড়া নাড়ে, চাকায় চাকায়, পায়ে পায়ে।