বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সৌমেন দেবনাথ
by
TechTouchTalk Admin
·
Published
· Updated
১| মাটি দূষণ
সোনার চেয়ে আরো দামি
আরো বেশি খাটি,
সেই খাটি আর কিছুই তো নয়
আমার দেশের মাটি।
সেই মাটি করছি দূষিত
নানান বর্জ্য ফেলে,
আর কীটনাশক দিচ্ছি ক্ষেতে
ইচ্ছামত ঢেলে।
গাছ কাটছি বাড়ছে মাটির ক্ষয়
ফেলছি রাসায়নিক সার,
পলিথিন, প্লাস্টিক ফেলছি যে
ধারি না কোন ধার।
দূষণ ভূমে ফললে ফসল
খেলে কমবে জ্যোতি,
দূষণ ভূমে হাটলেও তোমার
স্বাস্থ্যের হবে ক্ষতি।
২| পৃথিবীর কষ্ট
নড়েচড়ে বসি আমরা
৫ই জুন তো এলে,
তারপর আবার সবই ভুলি
৫ই জুন তো গেলে।
কিয়োটা, মন্ট্রিল, রিও, জেনেভায়
আলোচনা তো হয়,
কাজের কাজ তো হয় না কিছুই
তাইরে নাইরে নয় ছয়।
বিশ্ব আরো গরম হচ্ছে
মেরুর বরফ গলছে,
জলস্তরও যাচ্ছে বেড়ে
বনা-বনান্ত জ্বলছে।
জেনে বুঝেই করছি সবাই
পরিবেশকে নষ্ট,
নিজের লোভে ভুলেই যাচ্ছি
এই পৃথিবীর কষ্ট।
৩| জনসংখ্যা বিস্ফোরণ
এই একটি ছোট্ট পৃথিবী
জনসংখ্যার নেই শেষ,
হু হু করে বাড়ছে কেবল
কেউ বলে না তা বেশ।
যেখানে যাও না ভীড় আর ভীড়
ফসলি জমিতে নীড়,
জ্যামের মাঝে জীবন যাপন
মেজাজ থাকে কিড়মিড়।
আয়ের থেকে খরচ বাড়তি
খায় খায়- হৃদয়নাশী,
অকর্ম বাড়ছে সমাজে
উবে যাচ্ছে হাসি।
এত লোকের খাদ্য কোথায়
জমি যাবে কমে,
এত সন্তান হয় না মানুষ
কষ্ট প্রতি দমে।
গুণ্ডা হবে শখের সন্তান
দেশের হবে বোঝা,
না ভেবে ভাই সন্তান নিলে
হয়ে যাবে সোজা।
বাড়তি মুখের বাড়তি খাদ্য
তুমি কোথা পাবে,
তোমার পরিবেশ শেষ হবে
কষ্টে জীবন যাবে।
তোমার কষ্টের তুমি দায়ী
খেসারত জীবনভর,
কেউ সাহায্য করবে না ভাই
বলবে আরো মর মর।
একটি সন্তান হলে ভালো
দু’টি হলে আর নয়,
সবাই করো এই না শফথ
দেশ হবে মধুময়।
৪| পরিবেশে বিসংগতি
বর্ষাকালে হয় না বৃষ্টি
চাষার পোড়ে দৃষ্টি,
অসময়ে অনাসৃষ্টি
ফসল পুড়ে নষ্টি।
উত্তর বঙ্গ খা খা খরা
বিধাতার এক খেলা,
দক্ষিণ বঙ্গ ডুবে সারা
শস্য নষ্ট মেলা।
নদীর বুকে গরু চরে
মাছ তো কৃত্রিম জলে,
তালপুকুর জলশূন্য আজো
আর ঘর অথৈ তলে।
শীতকালে হয় অঝর বৃষ্টি
বর্ষাকালে মাঠ পড়ে,
কখন বর্ষা কখন গ্রীষ্ম
ভুলে যাচ্ছি গড়ে।
৫| বৃষ্টি ও বর্তমান
বিল্ডিং আর বিলবোর্ডের আড়ে
মেঘ পড়েছে ঢাকা,
আকাশ আর যে যায় না দেখা
বয় না বাতাস দমকা।
কাদা রাস্তা হারায় গেছে
হারায় গেছে কদম্ব ফুল,
নদীর বুকে বসত বাড়ি
নদী বয় না ছাপিয়ে কূল।
ব্যাঙ ডাকে না আর ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ
দেশি মাছের নেই বাণ,
বৃষ্টি পড়ে ছাদ গড়িয়ে
নেই তো সেই মধুর তান।
বৃষ্টি আসে কাল বিলম্বে
চাতক পাখির নেই দেখা,
ইট কংক্রিটে বৃষ্টি পড়ে
বৃষ্টি হয়ে যায় বোকা।
৬| ধূমপান
ধূমপায়ী বা অধূমপায়ী
থাকো হয়ে সাবধান,
ধূমপান করবে নাকো ক্ষমা
ধূমপান মানে বিষপান।
মূর্খরাই বলে ধূমপানকে
আভিজাত্যের প্রতীক,
ব্যক্তিত্ব বাড়ে না এতে
ক্ষতি সীমার অধিক।
ক্যান্সার তোমায় দেবে হানা
জীবন করবে দাহ,
গ্যাস্ট্রিক, আলসার, ক্ষুধামন্দা
শ্বাসযন্ত্রে প্রদাহ।
বুঝে শুনে দাও হে সঙ্গ
হে নব নজোয়ান,
নিয়ো না কভু গাজার টান
ছাড়ো বিড়ি মদপান।
রাস্তা ঘাটে যেখান সেখান
দেবে না বিড়ি টান,
তুমি খাবে তুমি মরো
অন্যকে দেবে ত্রাণ।
বাসে ট্রেনে চড়ো যখন
করো ভদ্রে গমন,
পরিবেশকে রাখো মলিন
নেশা করো দমন।
বাড়ি থাকো ভালো মত
শোনো খুলে দু কান,
কোলে নিয়ে শিশু সন্তান
দিও না বিড়ি টান।
নেশার ধোঁয়ায় পরিবেশ নষ্ট
যার তার হয় তো ক্ষতি,
নিজের গতির হবে নতি
নিভবে জীবন জ্যোতি।
৭| পরিবেশ দূষণ
করছি পরিবেশ বিনষ্ট
যা নয় কখনো কাম্য,
আমরাই নষ্ট করছি কিন্তু
পরিবেশের ভারসাম্য।
বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস
দিচ্ছে শুধু হানা,
বৃক্ষ কেটে করছি উজাড়
করছে না কেউ মানা।
কালোধোঁয়ায় বায়ু দূষণ
শব্দ দূষণ হর্ণে,
জল দূষণ মলমূত্র বর্জ্যে
ব্যাখ্যাতীত যা বর্ণে।
নদী মেরে তাতে ফ্লাটবাড়ি
বন কেটে কারখানা,
আপনা লাভে পরিবেশ শেষ
কি হবে কাল জানা।
৮| পরিবেশ বিপর্যয়
আমরা মানুষ খারাপ বড্ড
খারাপ তো স্পষ্ট,
পরিবেশকে করছি নষ্ট
দেখেও পাই না কষ্ট।
মনটা মোদের কালো কয়লা
অশুদ্ধ তো ভাবনা,
যত্রতত্র ফেলি ময়লা
ফেলি আবর্জনা।
বজ্রে পূর্ণ নদী নালা
বৃক্ষ কেটে উজাড়,
বন্যা, খরা দিচ্ছে না ছাড়
শীতে কাঁপছে তো হাড়।
সচেতনার নেই তো বালাই
কেউ নই একটু সজাগ,
মুখে মুখে নেতাদের হাক
কে নেবে দুর্যোগের ভাগ?
৯| আমাদের দায়
দিনে দিনে গরম বাড়ছে
বদলে জলবায়ু,
রোগ আর ব্যাধি বাড়ছে দিনে
কমে যাচ্ছে আয়ু।
বৃষ্টির সময় হয় না বৃষ্টি
দেখা যাচ্ছে খরা,
বৃষ্টি বিনে ফসল ক্ষতি
কৃষকরা আধমরা।
প্রতি মাসে গরম বাড়ছে
তবুও কাটছি গাছ,
অক্সিজেন যে কোথায় পাবো
ভাবি না সে আগ-পাছ।
গাছ কেটে সব করছি সাবাড়,
কুড়াল মারছি পায়ে,
আমরা একদিন যাবো মারা
আমাদেরি দায়ে।
১০| জলাবদ্ধতা
শহরগুলো দেখলে আমার
বড্ড লাগে হাসি,
শহর ভাসে অথৈ জলে
ডুবছে শহরবাসি।
বৃষ্টি হলে ছিটে ফোঁটা
চিন্তায় পড়ে চাটু,
পায়ের জুতা উঠে হাতে
জলে ডোবে হাটু।
রাজপথেতে নৌকা চলে
হাসি লাগে অধিক,
মাছ বাজারের মাছগুলো সব
ঘোরে এদিক ওদিক।
জল না হতেই জলে বদ্ধ
আমরা করবো কিতা,
নাকের মধ্যে কি তেল দিয়ে
ঘুমায় নগরপিতা?
নালার ময়লা ঘরে আসে
পঁচা গন্ধে প্রাণ যায়,
চর্ম রোগও ছাড়ে না পাছ
বাঁচা বড়ই যে দায়।
জল নড়ে না জল চলে না
অর্ধেক ডুবে গাড়ি,
খাচ্ছে সবাই হাবুডুবু
ফিরতে দেরি বাড়ি।
ব্যাং যে ডাকে ঘরের কোণে
সাপ যে সামনে ভাসছে,
মনের কষ্টে মানুষ কাঁদছে
কেউ কেউ আবার হাসছে।
জ্ঞানী গুণী থাকে শহর
শহর কেনো রোগা?
শহর হবে পরিকল্পনায়
তবেই তো কম ভোগা।