সম্পাদকীয়

সবুজের জয়গান
আমার সবকিছুই প্রকৃতি কেন্দ্রিক, ঘুরতে ভালো লাগে প্রকৃতির মাঝে, পড়াশোনার পীঠস্থানগুলিও ছিল প্রকৃতি ঘেরা, যখন যেখানেই থেকেছি একরাশ গাছপালা ঘিরে রেখেছে আমাকে, সখ্যতা গড়ে তুলেছি তাদের সাথে, ছোটবেলায় মনে আছে মাটি খুঁড়ে নদী খাত বানিয়ে তৈরী করেছি নদী, সে নদী প্রথমে খরস্রোতা এমনকি কিছু কাসকেড ও থাকতো। পরে একেবারে গতি হারিয়ে হয়ে যেত ওব-ইনিসি-লেনার নিম্নগতির মত জলাভূমি, আবার কখনো বৎসোয়ানার ওকাভাঙ্গো ডেল্টা। পাখিদের ডাক শুনতাম, এখনও শুনি। জল জমলে দেখি পাখিরা সে জলে স্নান করে। সব মিলিয়ে সব কিছুই ভীষণ প্রকৃতিক। আমার পছন্দের ঘোরার জায়গা গুলোর ঐতিহাসিক, ধার্মিক বা শহুরে গুরুত্ব কতটা আছে জানি না, তবে প্রাকৃতিক সম্পদে তারা পরিপূর্ণ। “সাগর নদী কত দেখেছি দেশ, আর পাহাড়ে সোনালি কত সূর্যোদয়/ আমি দেখেছি দ্বীপ কত অন্তরীপ আর নিশীথ রাত্রি বনে চন্দ্রোদয়” জানি অনেক কিছুই দেখা হয়নি এখনো “তাই ভরে না মন হায় ভরে না মন, কি করে বোঝাব যা দেখে নয়ন”। প্রকৃতিতে শুধু গাছ, পাখি নয় ভূপ্রকৃতিও একটা আকর্ষণ। নতুন ভূমিরূপে ভূগোল ধরা দেয়, গাছ পাখির সাথে আছে বোটানি জুলজীর হাতছানি। কর্মসূত্রে মানুষ ও মানুষের সাথে প্রকৃতির ইন্টারঅ্যাকশনটা কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হচ্ছে। যেটুকু গাছ চিনি, তার চেয়েও অনেক গুণ গাছ চিনতে পারছি এথনিক মানুষগুলির থেকে। আমার বেশীরভাগ ভ্রমণই শিক্ষা ও কর্ম সূত্রে। এবার আমার লেখালেখিতেও প্রকৃতিরই প্রধান্য বেশী। প্রকৃতির কোন উপাদান গল্পের হিরো হলে, প্রকৃতি তার হিরোইন। এভাবেই প্রকৃতি নিয়েই আমার জীবন আবর্তিত হচ্ছে। মানুষ ছাড়া প্রকৃতি অসম্পূর্ণ। সেই কথা মাথায় রেখেই অনেক মানুষের সাথেই নিত্যনতুন আলাপ হচ্ছে। পুরোনো কেউ হয়তো ঝরে গিয়েছে অচিরেই। এভাবেই বাস্তব ও ভার্চুয়াল জগতে আমার আঙ্কল আন্টি, দাদা দিদি, ভাই বোন এর সংখ্যা কিছু কম নয়। “এক দেশ এক ভাষা, এক দেশ ভিন্ন ভাষা, ভিন দেশ ভিন্ন ভাষা, এমনকি ইংরাজী ব্যতীত অন্য ভাষা আর সর্বোপরি এক ভাষা কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে অন্য দেশ” – কিন্তু সবারই যেন মনের ভাষা এক – নিখাদ ভালোবাসার ভাষা, প্রকৃতির ভাষা। সব বাঁধা অতিক্রম করা যায় এই প্রাকৃতিক ভাষার মাধ্যমে। তাই প্রকৃতিকে ভালোবাসুন, গাছের প্রাণ আছে… আচার্য্যের ক্রেসকোগ্রাফ বলেছিল। মনে আছে? তাহলে? গাছ কাটা বন্ধ করুন। গাছ লাগান। হোক সবুজের জয়গান।
সায়ন্তন ধর