সম্পাদকীয়

চলো বন্ধু পাতাই
ফেসবুকের বন্ধুত্ব নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে, তখন প্রতিবাদ স্বরূপ যেমন বলেছি যে ফেসবুক যে যেমনভাবে ব্যবহার করবে, তেমন প্রতিদান পাবে। এটা অবশ্যই একটা সমীক্ষা যোগ্য বিষয় যে আমাদের বাঙালিদের মতো আর কারা ফেসবুককে এমন সাহিত্যের আলো দিতে পেরেছে? ফেসবুক সাহিত্য অনেক সময়েই গুণগত মানের মানদণ্ডে সমালোচিত হয় ঠিকই, তারপরেও বলবো যারা হয়তো গুণগত দিক থেকে অতটাও উন্নত লেখা লিখতে পারছেন না, তাঁরাও কিন্তু দূরে থাকা কোন এক গাইড পেয়ে যাচ্ছেন। হয়তো কোন এক আকরিক এভাবেই মূল্যবান ধাতু হয়ে উঠছে। সম্পাদক ও প্রকাশকদের কাজ কিন্তু সহজ হয়েছে। আগেকার দিনে লেখককে যেতে হতো প্রকাশকের কাছে, দরজায় দরজায় ঘুরে জুতোর শুকতলা ক্ষয়ে যেতো, তবু হয়তো তাঁর লেখার মূল্য তিনি পেতেন না। অথচ আজ কিন্তু এই সংযোগ বড় সুনিশ্চিত হয়েছে। এ সবই তো ফেসবুকের দৌলতেই। আবার এই ডিজিটাল লেখনীর দৌলতেই নতুন বন্ধুত্ব হচ্ছে। আবার নিন্দুকেরা ভাবছেন, এই ফেসবুকের দৌলতেই মানুষ আপনজন ছেড়ে, আত্মীয়, প্রতিবেশী, স্কুলের বন্ধু, কলিগ ছেড়ে ভাব জমাচ্ছে ভার্চুয়াল জগতের অপরিচিতজনদের সাথে। কিন্তু তাই কি? যার সাথে আত্মার সম্পর্ক, অর্থাৎ যার সাথে কথা বলে বা মিশে আত্মার শান্তি, সেই আত্মীয়। পরিবারের সম্পর্কগুলি হয় রক্তের নয় বৈবাহিক সূত্রে। পারিবারিক সম্পর্ক বড় স্বার্থনির্ভর। বর্তমানে জটিল পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে চলতে গিয়ে একান্নবর্তী পরিবারগুলি ভেঙে যাচ্ছে। অনেকে আবার স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করতে না পেরে, অথবা স্বার্থসংঘাতে দূরে চলে যেতে বাধ্য হয়। একমাত্র ফেসবুকের মাধ্যমেই খোঁজ চলে নতুন বন্ধুর। একটু ভালো করে ভাবলে দেখা যাবে, মানুষ প্রথমে কিন্তু নিকট পরিজনদের ছেড়ে ভার্চুয়াল জগতে বন্ধুত্ব করতে আসেনি। গভীর নিরীক্ষণে দেখা যায় কাছের বন্ধু-পরিবার সবাই দূরে সরে গেলেই আমরা বন্ধুত্বের টানে ভার্চুয়াল জগতে আসি। মানুষ সমাজবদ্ধ প্রাণী, এ বিরাট পৃথিবীতে একা চলা তার পক্ষে সম্ভব নয়, তাই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে সৃষ্টি করেছে ভার্চুয়াল জগত। সেখানেই পোস্টের মাধ্যমে আমরা আমাদের সমগোত্রীয়, সমমনোভাবাপন্ন মানুষদের খুঁজে পাই। জড়িয়ে যাই নতুন বন্ধুত্বে। যে কোন সম্পর্কে দূরত্ব একটা বড় প্রতিষেধক। এই দূরত্ব থাকলে সম্পর্কে ফাটল ধরার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। তাই দূরত্বে থাকা এই ভার্চুয়াল সম্পর্কগুলোও অনেক বেশি টেকসই হয়। উদাহরণ তো অনেক আছে, তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে কিছু। কিন্তু ওই যে ব্যতিক্রমকে উদাহরণ ভেবে ভুল করলে তো হবে না। অতএব চলো বন্ধু পাতাই।
সায়ন্তন ধর