ধারাবাহিক রম্য সাহিত্যে সংযুক্তা দত্ত – ১১

২০১৪ সাল, অক্টোবর মাসের ১২ তারিখ, বিশাখাপটনম শহর।
আছড়ে পরল হুডহুড তুফান। জনজীবন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। ৭টা দিন ইলেকট্রিক ছাড়া থাকা কী প্রচণ্ড বিভীষিকাময় সে গল্প আর একদিন বলব।
এই হুডহুডের দাপাদাপি শেষ করে মাস দুয়েক পর, আসতে আসতে আবার যখন শহরটা সমে ফিরছে সেই সময় অন্ধ্রপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু আয়োজন করলেন “বিশাখা উৎসব”। বির্পযস্ত মানুষগুলোর একটু আনন্দ দরকার আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের থেকে ভালো আনন্দদায়ক যে আর কিছু হয় না সে কে না জানে?
বিভিন্ন জায়গায় তৈরী হল মঞ্চ- রামকৃষ্ণ বীচ, কৈলাসগিরি পাহাড়ের মাথায় আরো নানান স্পটে। ভাইজ্যাগের প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলি এমনিতেই খুব সুন্দর , সেই প্রতিটি জায়গায় মঞ্চ, শহর জুড়ে সাজোসাজো রব। আর আমাদের মত নাচ পাগল লোকজন তো আহ্লাদে আটখানা, অনেক নামীদামি শিল্পীদের দেখতে পাব সেই ভেবে।
সেই সময় আমার মেয়ে নাচ শিখত এক গুণী বাঙালি নৃত্যশিল্পী যিনি বিবাহ সুত্রে ভাইজ্যাগে থাকতেন তাঁর কাছে।
একদিন মেয়েকে ক্লাসে নিয়ে গেছি, দিদি বললেন উনি “বিশাখা উৎসবে” ডাক পেয়েছেন। আমরা তো খুব আনন্দিত। তারপর জানলাম বিভিন্ন প্রাদেশিক নাচের ওপর অনুষ্ঠান হবে। উনি বাঙালি ও দক্ষিণের কিছু ফোক করাবেন ঠিক করলেন।
রিহার্সাল চলছে বাঙলা ফোক, এমন সময়ে আমি ও আমার বন্ধু মৌমিতা নিজেদের অজান্তেই দিব্যি তাল দিয়ে যাচ্ছি। দিদি ডেকে বলল, “এই মেয়েগুলো একটু রেস্ট নিক।তোরা একটু নাচ দেখি। ” তিন মা মিলে বেশ মজা করেই স্টেপ করতে লাগলাম। দিদি বলল, এটাই ফাইনাল, তোরা তিনজন ও করবি। টেনশনে পরে গেলাম, এত বড় স্টেজ আর আমরা অনেকদিন প্রাক্টিস করি নি। কিন্তু ওই যে নেশা আর ভালোবাসা, যখনই মিলে যায় সৃষ্টি হয়েই যায়। জমজমাট অনুষ্ঠান হল, আমাদের স্টেজটা ছিল কৈলাসগিরি পাহাড়ের মাথায়, যারাই
ভাইজ্যাগ এসেছেন তারা জানেন এর নৈসর্গিক দৃশ্যের কথা।
সেই দক্ষিণ ভারতে সিমহাচালাম রেন্জের ফ্রেমে আমরা নাচলাম বাঙলার ঝুমুর। হাততালির বহর শুনে বুঝতে পেরেছিলাম সুর আর তালই পারে সব ভৌগোলিক সীমা পরিসীমা মিলিয়ে দিতে।