ধারাবাহিক রম্য রচনায় সংযুক্তা দত্ত – শেষ পর্ব

মে মাসের এক ঘোর গ্রীষ্মের দিনে , আমার প্রিয় বান্ধবী ইন্দ্রানী বলল,” বেশ তো লিখছিস, এবার নাচ নিয়ে তোর কিছু অভিজ্ঞতার গল্প লেখ”। তা ইন্দুর রিকুয়েস্ট তো আর ফেলা যায় না, তাই লিখেই ফেললাম আমার একদম প্রথম স্টেজ আপিয়ারেন্সের গল্প। বেশ ভালো সাড়া এল। তখন ঠিক হল ১০টা এপিসোড লিখব। ওমা, সেই দশটা হয়ে গেল তিনগুণ। কী জানি কী করে লিখে ফেললাম ৩০টা এপিসোড। প্রথম কয়েকটা লেখার পর মনে হত আর কী নিয়ে লিখব, মনের বর্মিবাক্স উলটে পালটে ঠিক টুপ করে বেড়িয়ে আসত কিছু কিছু।
যে কয়েকজন আমার প্রতিটি এপিসোড পরে মন্তব্য করে আমায় নিরন্তর উৎসাহ জুগিয়ে গেছে তাদের কথা না বললে এই নাচকাহিনী অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। সুস্মিতা, সবসময়ই এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছে, ইন্দ্রানী দত্ত, ফেসবুকের বন্ধু কিন্তু আমার প্রতি এপিসোডে নিজের সুচিন্তিত মতামত সবার আগে জানিয়ে দিত। সোমা, আমার ফেসবুকে পাওয়া বোন, আমার সব লেখাই ওর নাকী ভালো লাগে। ভাইজ্যাগের বন্ধুদের মধ্যে মৌমিতা, আমার মতই নাচ পাগল তাই খুব উপভোগ করত এই লেখা। ভ্যাইজাগের মুক্তা আর সোমা এরাও প্রতিবার নিজেদের অকুন্ঠ ভালোলাগা জানিয়েছে। চিরন্তন,(নিজেও সুলেখক)রাজর্ষি( লেখক,গায়ক) এরা দুজনেই সুলেখক এবং কীভাবে প্রফেশনের চাপ সামলে নিজের প্যশনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় ওদের কাছে রোজ শিখি, অনেক দরকারী টিপসও দেয় ওরা।সুকন্যা, , অলিভিয়া,, গায়ত্রী, দেবিকা, রাজশ্রী, ছন্দা, স্বাতী, সঞ্চালী, অর্পিতা, কলি, মিত্রা, মৃণালিনী,বাপ্পা, সুমন, বিটু,অপু(প্রচন্ড ভালো লেখে কিন্তু কাজের চাপে নাজেহাল ) কত নাম বলব যারা বিভিন্ন ভাবে উৎসাহ দিয়ে চলেছে। বিপ্লব, আমার আর এক বন্ধু, তার পরিচিত এক ম্যাগাজিনে লেখার সুযোগ করে দিয়েছে। দেবব্রত, আমার লেখার আর এক সমজদার।
কয়েকজন এমনও আছে যারা হয়ত মন্তব্য করেনি কিন্তু সামনে দেখা হলে বলেছে তোমার লেখা ভালো লাগে, সবসময়ই মন্তব্য করা হয়ে ওঠে না।
প্রণাম জানাই আমার গুরুদের, প্রথম গুরু ছিলেন অর্চনা কুন্ডু যিনি বন্দনা সেনের ছাত্রী। পরে শ্রদ্ধেয় সাধন গুহ ও পলি গুহর কাছে কিছুদিন শিক্ষা লাভের সৌভাগ্য হয়েছিল। তবে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে হয় ডঃ সুভাশীষ ভট্টাচার্য ও সুস্মিতা ভট্টাচার্যের কথা। যেটুকু নাচ আজ পারছি ওদেরই জন্য। আজও আমি সুস্মিতা দির সেই দুষ্টু ছাত্রী।
সবশেষে বলতেই হয় ফেসবুকের এই প্ল্যাটফর্মের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। যে নাচ প্রায় হারিয়ে ফেলতে বসেছিলাম তা নতুন করে যে নাড়াচাড়া করতে পারছি, অনেক কিছু এক্সপেরিমেন্টাল ভাবতে পারছি তা এই ফেসবুকের জন্য। লকডাউনের সময় যে আরো আরো করে নাচকে আকঁড়ে ধরলাম সেও এমন সবাইকে পাশে পেয়েছিলাম এই ফেসবুকের দৌলতে।
সবাইকে এইটুকুই বলব, এমনভাবেই জড়িয়ে রেখো তোমরা আমায় ভালোবাসায় পাশে থেকো আর যেন নতুন নতুন অনেক কাজ নিয়ে আসতে পারি তোমাদের সামনে এই শুভকামনাটুকুই চাই। অনেক অনেক ভালোবাসা সবাইকে। হ্যাপ্পি নিউ ইয়ার।