সম্পাদকীয়

কার্টুন কিন্তু কার্টুন নয়: হিংস্রতা? হ্যাঁ, তাহলে তো ভাবতে হয়!

আমরা সবাই কম-বেশি কার্টুন দেখেছি, এবং এখনো নিয়মিত দেখি। কিন্তু কার্টুনের মধ্যে দিয়ে হিংস্রতার সঞ্চালন কতটা ভয়াবহ হতে পারে তার পরিমাপ করা আমাদের সাধ্যের মধ্যে নয়। এখন, শিশুদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ভিডিও গেম। খেতে না চাইলে, দুস্টুমি করলে, বাচ্ছাদের শান্ত করার সহজ উপায় নিজের মোবাইলটা দিয়ে দেওয়া, অথবা বাড়ির স্মার্ট টিভিটা চালিয়ে দেওয়া। কিন্তু জানেন, কার্টুনের হিংস্রতা নাটক বা কৌতুকের থেকেও বেশি? উদাহরণস্বরূপ, আপনার শিশু যখন মোবাইলে মগ্ন তখন একটু তাকিয়ে দেখুন, দেখবেন সে একটি বা একাধিক কার্টুন অথবা গ্রাফিক চরিত্রের পিছনে দৌড়াচ্ছে তাকে খুন করবে বলে, আর মারতে পারলে মোবাইলে ভেসে উঠছে অসংখ্য ভার্চুয়াল গিফটস অথবা ক্রেডিটস, সাথে সাথে আপনার শিশুর মুখে ভেসে উঠছে হাসি, সে আবার মারতে দৌড়চ্ছে, তাকে জিততে হবেই। কিন্তু ভেবে দেখুন, ভার্চুয়াল দুনিয়ায় কিছু মানুষকে মেরে আপনার শিশু কি খুশি। বলতে পারেন ওটা ভার্চুয়াল পৃথিবী, আমাদের দুনিয়া আলাদা। কিন্তু ভেবে দেখুন, কোনো শিশু যখন একটি ভিডিও গেম খেলে তখন তার মন ভার্চুয়াল দুনিয়ায় থাকে, সে বাইরের জগৎ থেকে কিছু সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন থাকে। সুতরাং, ওটা ভার্চুয়াল হলে, আপনার শিশুটিও তখন একটি ভার্চুয়াল চরিত্র।

তরুণদের ব্যবহারের জন্য অনেক হিংস্র কার্টুন কমেডিক উপাদান ধারণ করে (যেমন, উডি উডপেকার, স্কুবি ডু), এর মধ্যে কিছু কার্টুন শুধু হিংস্রতার চিত্র তুলে ধরে। উদাহরণস্বরূপ, সামুরাই জ্যাক, এক্স-মেন ইভোলিউশন, এবং ব্যাটম্যান: দ্য অ্যানিমেটেড সিরিজ অ্যানিমেটেড সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে, যার মধ্যে কৌতুকের কোন উপাদান নেই। তরুণদের উপর কার্টুন দেখার প্রভাব মূল্যায়ন করার সময় সহিংসতার সময় কমেডির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়, কারণ কমেডিক উপাদানগুলি হিংসার চিত্রগুলিকে ছদ্মবেশী এবং তুচ্ছ করে তুলতে পারে এমন যুক্তিকে সমর্থন করার জন্য তত্ত্ব এবং গবেষণা উভয়ই রয়েছে (King, 2000; Potter & Warren, 1998)।

ভিডিও গেম অনেক শিশু এবং তরুণ-তরুণীর প্রাণ নিয়েছে, তারা হয়ে উঠতে চেয়েছিলো কোনো একটি ভার্চুয়াল চরিত্র। প্রাপ্তবয়স্কদের এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে, কিন্তু কে কাকে শেখাবে? আপনার শিশুটি যখন কার্টুন বা ভিডিও গেম নিয়ে ব্যস্ত, আপনি তখন ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত। সুতরাং, আপনার ঘরের মধ্যে আর একটি ঘর তৈরী হয়েছে। ভেবে দেখুন, আমাদের এখন তিনটে বাসস্থান, এই দেশ (যেখানে আমরা বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে থাকি, এবং আইন মেনে চলি), আমাদের ঘর (আমাদের নিরাপত্তা প্রদান করে, আমরা শান্তিতে থাকি) আর আমাদের ঘরের মধ্যে আর একটি ঘর, যেটির নাম ‘ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড’, যেখানে আমাদের কোনো নিরাপত্তা থাকে না এবং আমরা কেন এই কৃত্রিম পৃথিবীতে রোজ কিছু সময় থাকি তার কোনো কারণ আমাদের জানা নেই।
কার্টুন দেখো, কিন্তু পারলে বেশি করে বই পড়ো। এইসময় বাইরে বেরোনো নিরাপদ নয়, স্কুল তোমাদের বন্ধ, সুতরাং কিছু নতুন বন্ধু তৈরী করো, যেমন সন্তু এবং তোপসে। এরা সবার সাথে বন্ধুত্ব করে, তোমাদের বন্ধুত্ব কতদূর এগোলো সেটা অবশ্যই আমাদের জানিও।
লেখো, এবং লিখে আমাদের পাঠাতে থাকো এখানে:
sreesup@gmail.com / techtouchtalk@gmail.com

শ্রীতন্বী চক্রবর্তী

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।