কাঁটায় কাঁটায় রাত্রি একটা। বুকে চাপা কষ্ট, হাল্কা নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। উঁহু রাত্রে মাংসটা খাওয়া উচিত হয়নি। মা বারবার বলল, কিন্তু ওই যে রসনার লালসা। কলেজ জীবনে মেসে থেকে অনিয়ম এবং সুন্দর খাদ্যের জন্য হজম শক্তির একটা বেজে পনেরো মিনিট। তবুও কোনো ধোঁয়া বা লাল জল না না ওসব দিকে ভুলেও যায়নি। হ্যাঁ তবুও।যাইহোক এখন কপাল বা গোপাল কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। খাট থেকে নেমে এক বোতল জল সাবাড় করে দিলাম। পাশে মা অঘোরে ঘুমুচ্ছে, থাক ডেকে লাভ কি! সারা দিন যা খাটনি যায়। এখন রোজকার ঘটনা। উঁহু আজ একটু বেশিই যেন, বুকে চাপটা বাড়ছে। আচ্ছা এভাবেই কি স্ট্রোক হয়? মৃত্যু-কেমন অশরীরী অন্ধকার লাগছে এই অন্ধকারে। অদ্ভুত! মৃত্যু ভয়, যখন অতোবড় অপারেশন হল তখন ও এসব একবারের জন্যও মাথায় আসেনি। যাইহোক একটা অ্যান্টাসিড খেয়ে শুয়ে পরলাম আবার ।
সকালের রোদ জানলা দিয়ে মুখে পরলো। যাক বাবা মরিনি, ধরফর করে উঠলাম। বাথরুম যাবো । হটাৎ দরজাটা খুলতে গিয়ে দেখি, দিব্যি এপার ওপার হয়ে গেলাম। কাঁটা টিক টিক করে জানালো সকাল ৭ টা-শিরদাঁড়া দিয়ে একটা স্রোত নেমে গেলো। শুনলাম মা ঘুমের ঘোরে বলছে ,”বাবু বারবার করে বলি খাবার জন্য বাঁচা না, বাঁচার জন্য খাওয়া। সারারাত ঘুমালি না।”