সম্পাদকীয়

বুঝে চলা, খুঁজে চলা, আজ, কাল, স্বপ্নগুলো

ছেলেটাকে দূর থেকে দেখছিলাম। ফেরিঘাটে, পালতোলা নৌকার আশায় অথবা জলে ফেলে দেওয়া পয়সার ঝনঝনানি কিছু না কিছু খুঁজে চলেছিল নিরন্তর। ছেলেটাকে রোজ দেখতাম, ছোট ছোট হাত-পা, রোগা, উজ্জ্বল চোখ-মুখ, খুঁজে চলেছে হারিয়ে যাওয়া শহরের স্বপ্ন, যে শহরটা সত্যিকারের হৈচৈতে তার জীবনটা একেবারে অন্যরকম করে দেবে। ছেলেটা বুঝে বুঝে, খুঁজে চলেছিলো আজ, কাল, পরশুর হারিয়ে যাওয়া ইশকুলের স্বপ্নগুলো, তার ইশকুলের মাইনে দিতে না পারার জন্যে তার মায়ের বোবা চাহনি আর হাহাকার। ছেলেটাকে রোজ আরো বেশি করে দেখতাম, বছর ঘোরে, সাঁজোয়া গাড়ির সাজমেলায়, ফুলেল সুগন্ধির জামাকাপড়ের বোলচালে ও আরো বেশি করে চেষ্টা করছিলো বুঝে চলার, খুঁজে চলার, আজ কালের স্বপ্নগুলো। ওদের স্বপ্নগুলো দু-বেলা দু-মুঠো চাল-ডাল ফুটিয়ে খাওয়ার, সেই গাড়ি আর দূর আকাশে এরোপ্লেনের উড়ানের সাথে ওদের স্বপ্নগুলোর বিস্তর ফারাক। তবুও সে হইচই করার চেষ্টা করে, চেষ্টা করে এক নিকষ কালো দৈনন্দিন জীবনের খনির মধ্যে ঢুকে ভালো কিছু স্বপ্নের হীরে সংগ্রহ করার। ছেলেটার চোখে লেগে থাকে ফিরে আসার তাগিদ, ডুব দিয়েও তলিয়ে না-যাওয়ার আশ্বাস।
আমরা হৈচৈ করি, হৈচৈ নিয়ে লিখি, কখনো হয়তো সেই ছোট ছেলেটার হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলো খোঁজারও সময় পাইনা। দুর্দান্ত জীবনযাপন, রোজকার জীবিকার তাগিদ নিয়েই আমাদের হৈচৈ করতে হয়, এইবারে এই বছরে না হয় সেই হৈচৈ-এইসব ছোট বাচ্ছাগুলোর মুখেও একটু হাসির সঞ্চার করুক, আমরা খুব শীঘ্রই এরকম বেশ কয়েকজনের লেখা, আঁকা নিয়ে আসবো যাদের জীবন, জীবিকা, বাঁচার লড়াই নিরন্তর আমাদের সাহস জুগিয়ে চলবে।
ছোটরা, আর বড়রা যারা ছোটদের জন্যে লেখো, সবাই তাদের লেখা, আঁকা পাঠিয়ে দাও
sreesup@gmail.com / techtouchtalk@gmail.com এ। পড়তে থাকো, লিখতে থাকো,স্বপ্ন দেখা ভুলোনা।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।