কর্ণফুলির গল্প বলায় স্বপঞ্জয় চৌধুরী – ৬

চন্দ্রক্ষুধা
ছয়
প্রতিদিনের মতো পুষ্প আজও কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছে। চায়ের দোকানকে অতিক্রম করে সে গলির ভেতর প্রবেশ করে। গলির মোড়ে দুজন বখাটে সিগারেট খাচ্ছে। পুষ্প দেখে তারা শিস বাজায়। ছড়া কাটে কে তুমি সুন্দরী মুখের নেকাব খোল, হাতখানা ধইরা আমার শ্বশুড় বাড়ি চলো। মকবুল সাহেবের প্রতিদিনের বাজার করে থাকে লোকমান। প্রতিদিনের মতো লোকমান আজও বাজার থেকে বাড়ি ফিরছে। লোকমানকে বখাটে দুটো সালাম দেয়। সালাম ভডু আঙ্কেল। লোকমান সালামের জবাব দেয় অলাম ভাইগনারা। বখাটে নং ১বললো এইডা আবার কেমন উত্তর। লোকমান হেসে বলে- আধা সালামের আধা উত্তর। বখাটে নং-২ লোকমানকে কাছে ডেকে ফিসফিস করে বলে অক্ষণ যে মাইয়াডা গেল তার নাম কি? কি করে? কোন বাসায় থাকে? নম্বরডা জোগাড় কইরা দিবার পারবেন? লোকমান বলে- আরে ভাই এই কতা আগে কবেননা। ওই মিয়া ছাওয়ালতো আমার আত্মীয় লাগে। তালিতো আপনিও আমার আত্মীয় হয়ে যান আসেন কোলাকুলি করি। লোকমান বখাটে নং ২ এর সাথে কোলাকুলি করে বুক দিয়ে চাপ দিয়ে ধরে। বখাটে নং ২ বলে মামু ছাড়েন ব্যাথা লাগে। লোকমান চাপ একটু হালকা করে বলে আপনে কি শুয়োর। বখাটে নং ২ বলেন কি কইলেন। না মানে কলাম যে আপনি কি শুয়োর খান। বখাটে নং ১ বলে কি মিয়া বাইচলামি করো। লোকমান মুখটাকে বাঁকিয়ে বলে কোলাকুলি করার সময় গায়েরতে শুয়োরের গন্ধ পালামতো তাই কলাম। হয়েছে কি আমি ছোটবেলা হিন্দু পাড়ায় বড় হয়েছিতো। ঐখানে এক মেথর পট্টি ছিল। তা এক মেথর বিটার ছিল একপাল শুয়োর। যে সময় শুয়োর কাদার মধ্যে মাখামাখি করতো তখন যে এমন গন্ধ আসতো। ও তা আর কবার পারবোনা। সেই গন্ধডা আজ আপানার গারতে পালামতো তাই কলাম। ডোন্ট মাইন্ড ওই মিয়া ছাওয়ালতো সিস্টেম করে দিবানি। বখাটে ২ পুলকিত হয়ে বলেÑ হাচা কইতাচেনতো মামু। লোকমান বলে শুয়োর, শুয়োর। বখাটে ১নং কি কইলেন। লোকমান হেসে বলেন আরে ভাই ইংলিশও বোঝেন না, মানে কলাম যেন অবশ্যই-অবশ্যই।