T3 || দোল পূর্ণিমা || সংখ্যায় লিখেছেন সুমিতা চৌধুরী

 বসন্তের পরশ

পলাশবীথিতে এই সময়টা যেন ভালোবাসার অনুরাগে রাঙা হয়ে থাকে। চারদিকে শিমূল পলাশের লালিমায় যেন প্রকৃতি সাজে সলাজ বধূ বেশে। বসন্তের ফাগ ছড়িয়ে পড়ে আকাশে বাতাসে।

সেই ছোটো থেকে মায়ার বাস এই পলাশবীথিতে, আজ সে অশীতিপর বৃদ্ধা। শৈশব, কৈশোর, যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্যের আঙিনায়। ভালোবাসার মনের মানুষ ছেড়ে চলে গেছেন প্রায় এক দশক, পরপারে। তবু আজও যখনই বসন্ত আসে, তখনই তার মন ফিরে যায় তার ভালোবাসার মানুষটির কাছে বারবার। যখন গোটা পলাশবীথি বসন্ত উৎসবে মেতে ওঠে, তখন অদৃশ্য থেকে কে যেন আজও তাকে ফাগের রঙে রাঙিয়ে দিয়ে যায়, রাঙিয়ে দিয়ে যায় অনুরাগে তার অন্তর।

সে এই সময়টা ফুল সংগ্রহ করে ভেসজ প্রক্রিয়ায় আবীর বানায়, খরিদ্দারও হয় মন্দ না। না, উপার্জনের তাগিদে ততোটাও নয়, যতোটা মনের টানে। আসলে আজও তার সামনে যখন কিশোর কিশোরীরা তার থেকে আবীর কিনে, পরখ করে দেখার অছিলায় একে অপরের গালে এঁকে দেয় ভালোবাসার পরশ, তখন তার মনে হয়, ঐ ছেলেটি আর মেয়েটির মধ্যে মিশে আছে তাদের সেই ফেলে আসা রঙিন দিনগুলো, যেন একমুহূর্তের জন্য ঐ ছেলেটি আর মেয়েটি হয়ে ওঠে সে আর তার মনের মানুষ প্রদীপ, মানসপটে। হ্যাঁ, প্রদীপ নিভে গেছে বেশ কিছুদিন হলো, কিন্তু তার ভালোবাসার মায়া রয়ে গেছে আজও। যে আজও সবার তরে নিরুচ্চারে বলে যায় একটি কথাই,
” ভালোবাসা প্রতিনিয়ত ছড়াক তার আলো,
এভাবেই সকল বসন্ত কাটুক সবার ভালো।”

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।