T3 || বাণী অর্চনা || বিশেষ সংখ্যায় সুমিতা চৌধুরী

পলাশ রাঙা পাপড়ি
পাপড়ির মন আজ উতলা হয়ে আছে। সরস্বতী পুজোর পরদিন পাড়ার ফাংশন হবে রাতভর। যদিও রক্ষণশীল পরিবারের আর রাশভারি বাবার পারমিশান নেই রাত জেগে ফাংশন দেখার। অগত্যা রাতে শুয়ে জেগে থেকে গান শোনার জন্যই অধীর অপেক্ষায় রয়েছে সে।
আসলে এই প্রথম বসন্ত বাতাস ছুঁয়েছে তাকে, হয়তো গোপনে দিয়েছে কারো বার্তাও। সন্ধ্যায় দুটি চোখের অপলক দৃষ্টিতে ছিল বুঝি তারই ইঙ্গিত। তাই প্রতিবারের মতো এই জলসা হলেও, তার আকর্ষণ পাপড়ির কাছে আজ সম্পূর্ণ আলাদা মাত্রার।
অনেক রাতে পলাশের গান শুরু হলো। সত্যিই পলাশের গলা যে খুব ভালো সেটা একবাক্যে আশেপাশের এলাকার সবাই বলাবলি করে। তবে আজ পলাশের গলা আর গান যেন পাপড়ির কানে মধু ঢেলে দিল। মন বলল, এ সকল গান শুধুই তার জন্য। কখনো ভাবনার পাখা মেলে সে দিগন্তে পাড়ি দিল, কখনো আরক্তিম মুখ ঢাকলো নিজেরই দুই হাতের পাতায়। এভাবেই পাপড়ির সেই রাত কেটে ভোর হলো।
সকালে পলাশ এলো পুলকবাবুর (পাপড়ির বাবা) কাছে একটা জরুরী দরকারের অছিলায়। পুলকবাবু গত রাতে তার গানের প্রশংসা করাতে পলাশ সলাজের হাসি ছড়িয়ে বলল, এই গানগুলো তার মনের খুব কাছের। চকিতে দৃষ্টি বিনিময় হলো পুলকবাবুর অন্তরালে থাকা পাপড়ির সাথে। একটি কথা, সবার আড়ালে, সব কিছু বলে গেল দুজনার কাছে অকপটে। মনের ঘরে যেন জ্বলে উঠলো জলসাঘরের হাজার ঝাড়বাতি, প্রেমের রোশনিতে।
আসলে বাঙালি প্রেমের বোধনকাল যে বসন্ত পঞ্চমীই।