সকালে ঘুম থেকে উঠে উঠোনে পা রেখে, আকাশে পেজা তুলোর মতো টুকরো টুকরো মেঘ ভেসে থাকতে দেখেই গোমস দৌড়ুলো টগরী নদীর দিকে । ওই নদীর ধারেই যে মাঠ জুড়ে ফুটে থাকে সাদা সাদা কাশফুল । এখুনি ছুটে গিয়ে সেখান থেকে কাশফুল তুলে এনে, খেলার সাথীদের হাতে গুঁজে দিতে দিতে বলবে…
সাতসকালে হাতে ফুলের সাজি নিয়ে হাসিরানী গুটিগুটি পায়ে এগোচ্ছিলো প্রতিবেশী করিমচাচার বাড়ির দিকে । ওদের বাগানের শিউলিগাছটা এই শরতেই ফুলে ফুলে ছেয়ে থাকে । এবং মৌমাছিদের আনাগোনার ধূম লেগে যায় । গাছের গোড়ায় ঝরে থাকা ফুল কুড়োনোর মজাই আলাদা । সেই মজা লুটবে বলেই না গুটিগুটি পায়ে এগোচ্ছে সেদিকে । গিয়ে দেখে, গাছতলায় ঝরে থাকা শিউলি ফুল কুড়িয়ে নিজের ওড়নায় জড়ো করছে করিম চাচার মেয়ে নাজিয়া ! দেখে অবাক হয়ে বান্ধবীকে শুধোয়, শিউলিফুল কুড়োচ্ছিস !
কেন, মানা আছে নাকি ?
না-না, তা কেন হবে । ফুলগুলো নিয়ে গিয়ে নিশ্চয়ই ঘরে সাজিয়ে রাখবি ? এই ফুল যে তোদের আরাধনায় লাগে না নাজিয়া ।
আমাদের না লাগুক, তোদের আরাধনায় তো লাগে হাসিরানী । আমি নাহয়, কুড়িয়ে নিয়ে গিয়ে দিয়ে আসবো পাড়ারই শিব মন্দিরে । নাজিয়া হাসতে হাসতে জবাব দেয় ।
মন্দিরে দিবি ! বামুনদাদু গ্রহণ করবেন তোর ছোঁয়া ফুল ?
তাহলে অঞ্জলি দিয়ে আসবো মন্দিরেরই গায়ে । ভাববো, আল্লাহ’কে নিবেদন করলাম । জানিস, আপা না খুব দামী একটা কথা বলেছেন আমাকে ।
কি বলেছেন চাচী ?
তোদেরই পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ নাকি বলে গেছেন, ঈশ্বর-আল্লাহ-গড, যারই আরাধনা করি না আমরা, সবারই আরাধনা গিয়ে পৌঁছোয় সেই একই জায়গায় । কথাটা খুবই দামী, তাই না হাসিরানী ?
হাসিরানী অবাক চোখে তাকিয়ে দেখে, নাজিয়ার মুখটা যেন ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে মাদুর্গার মুখে ! সহসা গোমস এসে ওদের হাতে একটা করে কাশফুলের গোছা ধরিয়ে দিয়ে বলে, শরৎকাল এসেছে রে, শরৎকাল । তাই তো কাশফুল নিয়ে এলাম তোদের জন্য ।