কর্ণফুলির গল্প বলায় স্বপঞ্জয় চৌধুরী – ১

চন্দ্রক্ষুধা
এক
পুরোনো ঢাকার একটি সরু গলি। যেখানে দিনের আলোই ভালোভাবে পৌঁছেনা। মাঝে মাঝে যদিও কিছুটা আলোচ্ছটা প্রতীয়মান হয়। তখন আধো আলো আধো ছায়ায় একটা সুন্দর আর্টসেন্স জাগ্রত হয়। কদাচিৎ রাতের বেলা দুএকটা ভাঙাবাড়ির ওপর দিয়ে গোলাকার মস্ত চাঁদ দেখতে পাওয়া যায়। কোন ফটোগ্রাফার এখানে আসলে হয়তো দু-একটা ছবিও তুলতে চাইবে। এ গলি, গলিতে একাকী বসে থাকা নেড়ি কুকুর, গলির মোড়ে একটা পান-বিড়ির দোকান ছোট্ট দোকান, লতিফ টি স্টল, গলির একদম কর্ণারে বরকত সাহেবের ভাঙা চোরা দোতলা বাড়ি এসব কিছুই তার ছবিতে হয়তো ঠাঁই পাবে। তার ছবিতে হয়তো আগন্তুকের মতো এসে হাজির হবে তাদের পাশের বাড়ির কেয়ারটেকার লোকমান মোটু সাইজের লোক যার ভুরি সর্বদা পোয়াতি নারীর মতো অগ্রবর্তী, সে নিয়মিত শারীরিক কসরত শেষে খালি গায়ে একটা ছবির পোচও নিতে পারে অথবা তার ইঁদুরে গোঁফে তেল মাখারও একটা ফটো তুললেও মন্দ হয়না। সে কোলাকুলি করতে খুব পছন্দ করে। মন্দ লোকের গা থেকে সে নাকি শুয়োরের গন্ধ পান। তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় নাকি ঐ নেড়ি কুকুরের চাইতেও প্রখর। সে বরকত সাহেবের কন্যার অঘোষিত বডিগার্ড। মাঝে মাঝে সমস্যায় পড়লে লোকমানই ভরসা। না ডাকতেই সে হাজির হয়। শত হলেও এলাকার মেয়ে। নিজের মেয়ের চেয়েও কম নয়। দায়িত্ব-টায়িত্ব বলেতো একটা কথা আছে। শরীরটাকে যদি তাদের নিবেদনে কাজে লাগাতে না পারে তবে কেন এত কসরত। পুষ্পের সৌন্দর্য ঠিক কোন পুষ্পের মতো তা ঠাহর করে কেউ বলতে পারবে না। বরকত সাহেব খুব একটা পরহেজগার নয়। তার বউ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এমনটা কেউ শোনেননি দেখেনওনি। কিন্তু পুষ্পকে পরহেজগার না ভেবে কোন উপায় নেই। পা থেকে মাথা অবদি তার সমস্ত শরীর বোরখায় ঢাকা। গত দশ বছরে তার মুখশ্রী কেউ দর্শন করেছে বলে শোনা যায়নি। সাধারনত দুই ধরনের মেয়েরা বোরখা পড়ে। এক হচ্ছে যারা খুব সুন্দর তারা আর দুই হচ্ছে যারা খুব কুৎসিত তারা। কিন্তু পুষ্প কোন শ্রেণিভুক্ত তা বলা মুশকিল। তাই তার পুষ্প নামের মর্মার্থ সকলেরই অজানা। গলির ভিতর দিয়ে সে ঝড়ের বেগে হেঁটে বাড়িতে ঢোকে আবার কলেজে যাওয়ার সময়ও ঝড়ের বেগে গলিটা ক্রস করে। তার সহপাঠীদের সাথে যোগাযোগ করেও খুব একটা লাভ হবেনা। কারণ তারাও কোনদিন তার মুখশ্রী দেখেনি। অনেকবার দেখতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের সবার কাছে পুষ্প এক রহস্যময়ী মেয়ে।