T3 || সমবেত চিৎকার || বিশেষ সংখ্যায় সুমিতা চৌধুরী

স্বাধীনতার আহ্বান

রাতের মিছিল থেকে ফিরছিল চাঁদনি। জমায়েত থেকে বাড়িটা বেশী দূরে নয়, তাই অতিনদাকে ফিরে যেতেই বলেছিল। এটুকু রাস্তা সে নিজেই পারবে যেতে। আন্দোলনের তো মূল কথাই ছিল নারী স্বাধীনতা। যদি সবসময়ই সেফগার্ড দিতে কাউকে না কাউকে থাকতেই হয়, তবে স্বাধীনতা কিসের?

গলিটা বাঁক নিতেই কি রকম একটা অস্বস্তিকর অনুভূতি হল চাঁদনির। কেউ যেন পিছু নিয়েছে। কিন্তু দু’দুবার ফিরে তাকাতেও পিছনে কাউকেই দেখতে পেল না।

হঠাৎই দুটো শক্তিশালী হাত দুদিক থেকে চেপে ধরে চাঁদনিকে নিজেদের বসে আনার প্রবল চেষ্টা করতে লাগল। সঙ্গে রুমাল বাঁধা মুখের আড়াল থেকে অ্যালকোহলের ঝাঁঝালো গন্ধের সাথেই বেরিয়ে এলো ঘৃণ্য বুলি, “কি রে স্বাধীন হবি না? চল তোকে আজ এক্কেবারেই স্বাধীন করে দি।স্বাধীনতার স্বাদটা কেমন বোঝাতে হবে তো। চল এবার খালপাড়ে।” প্রবল প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেও চাঁদনি নিজেকে ছাড়াতে পারছিল না।

ঠিক সেই সময় ঐ গলিপথ দিয়েই একটা মিছিল আসছিল। সবার হাতে মশাল, আর গলায় স্বাধীনতার সম্মিলিত স্বর। ওরা যতো এগোচ্ছিল, ততোই চাঁদনির বাঁধন আলগা হচ্ছিল। একসময় এই মিছিলের জোয়ারে চাঁদনিকে ছেড়ে ওরা পিছু হঠল ধীরে ধীরে, আর আবার অন্ধকারকে আশ্রয় করেই যেমন এসেছিল, তেমনই অদৃশ্য হল। মিছিল এগিয়ে চলল দৃপ্ত পদে সকলের স্বাধীনতার আহ্বানে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।