T3 || ঘুড়ি || সংখ্যায় সুদীপ্তা চট্টোপাধ্যায়

ইচ্ছা ঘুড়ির স্বপ্ন উড়াল…

ইচ্ছে তো হয় অনেক কিছু
ইচ্ছে ঘরেই বাস
ইচ্ছেটানেই যাপন ঘুড়ি
ইচ্ছে লাটাই শ্বাস

আমি ইচ্ছে ঘুড়ি, কবিতায় ছড়ানো রহস্যময় অক্ষর আর স্লোগানে বসানো আগুন শব্দের মত স্বপ্ন ছড়ানো আমার কাজ।
আকাশে পেটকাটি, চাঁদিয়াল,মোমবাতি,বগ্গা যে ঘুড়ির ঝাঁক তাদের শান্ দেওয়া মাঞ্জার সুতোয় অবজ্ঞার গুঁড়ো গুঁড়ো কাঁচ ।আমি মাঠকোঠার বোকা গ্রামীণ ঘুড়ি। তারা শহুরে,আকাশ ছোঁয়া হাই রাইজের মাথায় তাদের ঘোরাফেরা তাই গুমোরে তাদের মাটিতে পা পরে না।
তবে ওরা জানে না ওদের ঘুড়ি জীবনের গতিবিধির নিয়ন্ত্রন কিন্তু এক অজানা লাটাই এর হাতে।
আমি ইচ্ছে ঘুড়ি,আমার জীবনলাটাই এর সুতো আমার ইচ্ছের সাথে বাঁধা তাই আমার ইচ্ছে মত আমি যখন তখন খেয়াল খুশিতে লম্বা গাছেদের মগডালে বসা সদ্য উড়তে শেখা পাখীদের ছানার মতই মেলতে পারি আমার ভীরু স্বপ্নগুঁড়ো মাখা ডানা।পৌষ সংক্রান্তির ভোরে সদ্য ঘুম ভাঙা ফুটপাথের মেয়েটির চোখে ছড়িয়ে দিই রাতের স্কুলে রোজ পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন কাজল।
সাগর পাড়ের দূরতম দ্বীপে ক্ষতময় একা যে মেয়েটি অবিরাম যুদ্ধ করে নিজের সাথে তার আঁচলে বেঁধে আসি উড়ন্ত পাতার মতো উড়ে যাওয়ার সাহস ।
বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে তেরো বা চৌদ্দর যে ‘ছেলেটার মন নেই প্যাডেলে বা চাক্কায়’, চোখ চাঁদিয়াল বগ্গায় প্যাঁচে তার হাতে ধরিয়ে দিই মুক্তির ঘুড়ি।
কারো জলন্ত ঠোঁটে আঁকি প্রজাপতির মতো রং ছড়ানোর অঙ্গীকার, কারো ফাটা কপালে লিখি গোপন আশ্রয়ের ঠিকানা। মরুভুমির মত নিঃস্ব বুকের পাঁজরে ছলকাই ছলাৎছল নদী।
বিষাদের চোখে রাখি অসহ্য সুখের স্বপ্ন প্রলোভন। নিবিড় আড়বাঁশিতে বাজাই অন্তরের আনচান।
খুব ইচ্ছে করে ওই পেটকাটি, চাঁদিয়ালদের গায়ের শহুরে যান্ত্রিক সভ্যতা মুছে আবার শেখাই প্রাচীন অরণ্যের পরিভাষা…
হাতে হাতে ঝলসে ওঠা ঘৃণার ধর্মভোজালি,তাক করে রাখা হিংসার রিভলভার টানটান মাঞ্জার সুতোয় ভোকাট্টা করে ইচ্ছেঘুড়ির লেজে সভ্যতার আকাশ জুড়ে লিখি ভালবাসার নামগান …

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।