T3 সাহিত্য মার্গ || ১৫০ তম উদযাপন || সংখ্যায় সুমিতা চৌধুরী

সুপ্ত স্বপনের আখ্যান

মনস্চক্ষুর যতো স্বপন,
তুলে রেখেছিলাম মনঘরের কুলুঙ্গিতে।
কখন যে তার পালে লাগল বাতাস,
দেখি ভাসছি সেই ইচ্ছে ডানাতে!

দেখি, রামধনু রঙে আকাশের বুকে,
ছড়াচ্ছি সকল অনুভূতির রঙ।
টুপটাপ ঝরে পড়ছি সবার মন-মননে,
মুছে দিয়ে যতো কালিমার সঙ।

হঠাৎই দেখি হয়েছি পাখি,
ভালোবাসার চিরকুট ঠোঁটে নিয়ে।
বার্তা দিচ্ছি সকল মন বারান্দায়,
প্রেমডোরে বাঁধতে ঘর, সব শোক ভুলিয়ে।

যেই না ফুটেছে ভোরের আলো,
পুব আকাশটা হয়েছে রাঙা,
দেখি আমি ধরেছি ফুলের অবয়ব,
হর্ষ, সুবাস, বিলিয়ে এ ধরাকে করতে চাঙা।

নিরালা দুপুরে সহসাই গল্পকথা হয়ে,
রয়েছি অপেক্ষায় প্রতি চিলেকোঠায়।
সুখ-দুখের আখরে চেতনে জাগছি আবার,
মন গলিপথে অবলুপ্ত স্মৃতিরই পূর্ণতায়।

বিকেলের আলো যখন মাখছে সোহাগ,
দিচ্ছে ডাক অজানা ফেরারী পথের,
ঠিক তখনই বাউল বাতাস হয়ে,
খুলছি যতো আগল নিরালা মনের সুপ্ত অভিরথের।

সাঁঝ নামল যবে রাঙা আবীর মেখে,
সান্ধ্য প্রদীপে, শাঁখে, ধূপ-ধুনায়,
আমি যেন সে সাঁঝের তুলসী হয়ে,
ঘর অঙ্গনে ফিরছি স্থিতি স্থাপনায়।

আবার সেই আমিই রাতে চাঁদের সনে,
খুনসুটিতে মেতে জমাচ্ছি কখন রাতের জলসা।
তারাদের জড়োয়া গয়নায় মুঠো ভরে,
সকল আঁধার ঘরে বিলোচ্ছি সুখ স্বপনের ভরসা।

এভাবেই একটি দিনের অবসরে,
ইচ্ছে ডানায় ফেরারী হয়ে,
দেখি সুপ্ত স্বপন কখন চোরাপথে,
লিখেছে এক আখ্যান মনেরই বার্তা বয়ে।।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।