ক্যাফে কাব্যে সুজিত চট্টোপাধ্যায়

১| তোমায় মনে রেখে

হেই লেতাজী ! তুয়ার জনমদিনটো ফির
আস্যে গ্যালো রে !
তুয়াকে মনে রেইখ্যে সি সক্কাল থিক্যে কত্তো কাণ্ড হবে বল কেনে ?
পেত্থমতে তু একবার ভাব কেনে .. .. .
উ শীতভোরটোয় কচ্চিগুলান কে উঠায়ে
রাস্তায় রাস্তায় ” পোভাতফিরি “,
কচ্চিগুলানের কচ্চি কচ্চি হাতে
তিরংগা পতাকা উইড়ছে পতপত ;
টোটোয় চইড়ে বেড়াইছিস তুই ,
তুয়ার যোদ্ধাবেশের ছবিটোয় হলুদ গাঁদার মালা ,মাইকে গান বাইজছে. .. .
” অ্যায় মেরে বতন কি লোগো
জারা আঁখ মে ভর লো পানি “. .. .
কেলাবের মাঠে আইস্যে ফির
তুয়ার নামে বক্তিমে .. ..
ইখন গেরামের বড়ো লেতাটো
গলা ভারী কইরে কিছি বইলবে. ..
যে পতাকাটো উপরে পতপত কইরে উইড়ছে ,
উটো উল্টা লাগানো থাইকতে পারে ,
কিছি মনে করিস লাই ,
ছেলেছগড়াগুলান কাল রাত্যে
টুকদু আনন্দ কইরে ছিলো ,
তুয়ার জনমের বছরটো যেদি ভুল বইলে ফ্যালে ,
কিছি মনেটো করিস লাই ,
তুয়ার চেয়ে উর কাজটো কিছি কম লয় ।
ফিরিস্তি দিল্যম লাই , তুয়াকে মু খুব চিনি বটে ;
ফটো থিক্যে বাড়াইন গিয়ে চড়টো কষাইন দিবি ,
দিনটো মাটি হয়িন যাব্যেক।

হেই লেতাজী ! তু দ্যাখ কেনে. ..
ঠোঙা ভইরে জিলাপী সিঙারাগুলান আনা করাইনছে , বিলি হব্যাক ।
টুকদু দাঁড়া কেনে ,মু জিলাপীটো লিয়ে যাই ।
তুয়ার ভাগেরটা লিয়ে লে,
সারাদিন কুথায় কি খাবি ?
তুয়ার জনমদিনে পায়েসটো হব্যাক লাই ,
কেকটো কুনো শালা কাইটবেক লাই ।
যীশুর জনমদিনে, ইংরেজী বচ্ছরের পেত্থম দিনে
কেকটো কেটে লিছে ।
ই ঠায় রোদে দাঁড়াই থাইকতে হব্যাক তুকে সারাদিনমান, সি সনঝেবেলা টেবিলটো
তুলার কালে তুয়ার ছুটি ।
ভাগ্যিস ! জানুয়ারী মাসটোতে জন্মাইছিলি ,
বৈশাখ মাস হলি হোতো এক চিত্তির !

হেই লেতাজী ! উ দ্যাখ কেনে সুভাষ !
পেছিস না কি মাংসের সুবাস ?
তুয়ার জনমদিন বল্যে কথা !
টুকদু মাংস , টুকদু আর কিছি ?
মাথাটো ঘুরাইন দিবে ইমন কিছি ,
বড়ো চাপ লিছে রে ;ওটুকু উয়াদ্যার প্রাপ্য বটি ।
ই দ্যাখ কেনে ! অমন ভাটির পারা
চখ্যে তাকাইছিস কেনে মুর পানে ?
বড়ো সত্যিটো বুইলে দিছি ?
মনটো ছুটো করিস লাই ।
মুরা ইখন স্বাধীন বটে. .. ..
ইখন আর তুকে হাঁক পাইড়তে হব্যাক লাই. ..
“তুমরা মুকে রক্ত দাও
,মু তুয়াদ্যার স্বাধীনতা দুবো “।

হেই লেতাজী ! টুকদু বস কেনে !
উ দ্যাখ ! সাদা পাজামা পাঞ্জাবী ,গলায় তিরংগা উত্তরীয় ,উটো মুদের লেতা বটি ,
উ ইখন কম্বল দিবে ,
ছুটো লেতা ধইরে নামটো লিখাইছি ,
ইখন মুর নামটো লিয়ে ডাইকব্যাক. .. .. .
” স্বাধীন সোরেন “! ” মুক্ত মুর্মু “!
একবার ডেক্যে সাড়া না পেইলে
কম্বলটো বেহাত হয়িন যাবেক ।
বড়ো শীত করে ,
ই স্বাধীন সোরেনের,মুক্ত মুর্মুর লহুটা আর গরম লাই ।
তুয়ার ই পোশাকটো খুব গরম বটি ,লয় ???
পোশাকটো মুকে দে কেনে !
গরম হতি পারি কিনা ফির দেখি একবার ।

২| যোদ্ধার ইতিহাস

সূর্য পশ্চিমে ঢলেছে অনেক আগেই ;
তবুও কেন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নেই ?
কবে কোন মহাভারতের সময়কাল থেকে
সেটাই তো রীতি , তবে নেই কেন
যুদ্ধ বিরতির শংখনিনাদ এখনো ?
শান্তির সাদা পতাকা এবার ওড়াও,
চলো ,ঘরে ফিরে যাই আজকের মতো
যুদ্ধেও কিছু ‘ নীতি ‘ আছে ,তাতে সম্মত হও।
না,ভীতি নয়, আমি রীতি ও নীতিতে চলি প্রথামতো।

তোমরা বলেছো কপট হাসি হেসে …
“এভরিথিং ইজ ফেয়ার
ইন লাভ এন্ড ওয়ার “।
কিন্ত এ তো কপট নীতি,যুদ্ধ নীতি নয় ;
আর যদি তাই হয়
তবে ভালোবাসো , মানুষকে ভালোবাসো আশ্লেষে তোমার কথাই যদি ধরি
এসো আরো একবার মনে করি . ..
সেখানেও প্রথমে ‘ ভালোবাসা’র কথাই বলা আছে ;

ভুলে সব হিংসা, লোভ , ঘৃণা ও বিদ্বেষ …
ফুরোয় নি কিছুই ,এখনো সময় আছে
এসো গড়ে তুলি একটা স্বপ্নিল ভালোবাসার দেশ ।
নও রাজী তুমি ? তবে হত্যা করো নিরস্ত্র আমাকে ,
আর নয় কোনো অস্ত্র ঝনঝনানি ,
চেয়ে দ্যাখো ,হাতে ধরা আছে রক্তগোলাপ খানি ,
গোলাপের রঙে, রক্তের রঙে মিশে হোক একাকার ;
সেই রঙে লেখা হোক নতুন ইতিহাস যোদ্ধার ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।