|| শাম্ভবী সংখ্যা ২০২১ || T3 শারদ সংখ্যায় শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়

১| মরচে পড়ে অশ্বত্থ পাতায়
বন্ধুতা এখন দেখি
বুকে নয়,মুখে বেশি আঁকা।
সাজানো বাগান ঘিরে
অদৃশ্য দেওয়াল তুলে রাখা।
মহানগরের বাড়ি-
মফস্বল কার্নিশের গায়ে
কোনক্রমে ঝুলে থাকে,
ধুলোময়লা লাগে হাতে-পায়ে।
ঘুড়িচোখে স্বপ্ন থাকে,
কিছু ভাল মানুষের খোঁজ
এতবার ঠকেছে সে,
আজও তবু ভালবাসে রোজ।
এভাবেই মরচে পড়ে
কার্নিশের অশ্বত্থ পাতায়,
পুরোনো বাড়ির গায়ে
রোদ নামে উদাসীনতায়।
২| সুখী বিবাহিত মেয়েরা
যতক্ষণ একা আছে,
ততক্ষণই ভালো।
চেহারায় দীপ্তি, আর
ব্যক্তিত্বে আলো,
অজস্র অনুরাগী,
স্তাবকের ভীড়
সঙ্গ পেলে গর্ব,
আর ইর্ষা পড়শির।
বিবাহিত মেয়েদেরও
অনুরাগী বাড়ে,
তার দুঃখে দুঃখী হলে
আহা রে,আহা রে!
অসুখী দাম্পত্যকথা,
পিঠে রাখা হাত
সমবেদনার পাশে
ধূর্ত অজুহাত।
মেয়েটি শিল্পী আর
দাম্পত্যে সুখী,
প্রতিভা যতই থাক,
প্রজ্ঞা বহুমুখী-
সমস্তই বৃথা হবে,
কাজও যাবে কমে,
এর চেয়ে স্পষ্ট বলা
যায় না কলমে।
৩| কবির সঙ্গে দেখা
ভীড়ের মধ্যে অন্যতম আমি
দেখেছিলাম আনত বিস্ময়ে,
বহুবছর আগের প্রিয় স্মৃতি
এইটুকুই আমার সঞ্চয়ে।
সামনে ছিলো সিগারেটের ধোঁয়া,
কবিকে ঘিরে অনুরাগীর ভীড়,
আমার মতো দূরের ছিলো যারা
একইভাবে হৃদয়ে অস্থির।
সুনীলদাকে দেখছি? নিজে চোখে?
এতেই কেঁপে উঠেছিলাম মনে,
কাছে যাবার সাহস যতদিনে
কবি তখন চন্দনেরই বনে।
তবুও তাঁকে সুনীলদাই বলি,
কেমন যেন নিজের মতো লাগে,
জন্মদিনে এসব মনে এলে
কণামাত্র সুনীল পাই ভাগে।
৪| লোভ তো আছেই
যতই বলি না কেন লোভ নেই,
লোভ তো আছেই,
মাছরাঙা ওড়ে যত উঁচুতেই,
চোখ তো মাছেই।
চারপাশে যত ঢাকী,আর যত
সততার ঢাক,
হাতে সকলেরই কাঠি,নিজেরটা
নিজেই বাজাক,
যখন নীরব তারা,তখনও কাঠিতে
কারুকাজ,
পরস্পরের পিঠ চুলকোতে
ঢাকীরা দরাজ।
লোভ তার পথ খোঁজে মৃদুস্বরে,
নিরীহ গলিতে,
কখনো সে জল মাপে
হাতে নিয়ে অদৃশ্য ফিতে।
কে’ই বা ‘হৃদয় খুঁড়ে
বেদনা জাগাতে ভালবাসে’,
অগণিত স্খলনের
দাগ লেগে থাকে ঘাসে ঘাসে।
গুছোনোর লোভ নেই জানি,তবু
লোভ তো আছেই,
যে তুমি চাও না কিছু,মন চাই
তোমার কাছেই।