গদ্যের পোডিয়ামে সুজিত চট্ট্যোপাধ্যায়

 বিজ্ঞানমনস্কতা বনাম

ভয়টা কোথায় জানেন ? কুসংস্কার কে যখন ধর্মের কিংবা বিজ্ঞানের চকচকে মোড়কে , তবক জড়ানো পানের মতো মুড়ে পরিবেশন করা হয়, সেখানেই।
তাবিজ, মাদুলি, ঝারফুক, বশীকরণ, নীলচে লালচে পাথুরে আংটি ইত্যাদি বহুকাল যাবৎই প্রচলিত আছে। কিছু মানুষ সেসব বিশ্বাসও করেন আজও ।
কেউ প্রত্যাশায়, কেউ ভয়ে, কেউ অভ্যাসবশত আবার কেউবা অগতির শেষ গতি, পরীক্ষামূলক ভাবে।
কিন্তু আজকের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং যুক্তির যুগে, যখন সবাই প্রায় সবকিছু যাচাই-বাছাই করে নিতে চাইছে , বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের বিশ্বাস এবং আস্থা জোরালো হচ্ছে , এবং তার অবশ্যম্ভাবী ফল হিসাবে কুসংস্কার পিছু হঠছে । ঠিক তখনই কিছু ধান্দাবাজ ফন্দি করে , সেই পুরনো এবং প্রায় বাতিল বিশ্বাস গুলো কে বিজ্ঞানের তকমা লাগিয়ে বিজ্ঞাপন করতে শুরু করেছে। টিভিতে টাইম স্লট ভাড়া নিয়ে , কিংবা বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে ঢালাও প্রচার চলছে।
বিচার হীন অন্ধবিশ্বাসীর অভাব নেই জগতে। তারাই এই চাতুরীর চাতালে বলি হন। লাভবান কে হন বলাই বাহুল্য ।
কেউ কেউ আবার ” বিশ্বাসে মিলায় বস্তু ” এই আপ্তবাক্যের শরনাপন্ন হয়ে নিজেই নিজের মন কে প্রবোধ দান করে খুশি হয়ে যান।
জ্যোতিষী আর জ্যোতির্বিজ্ঞান এককথা নয়। সেই কারণেই বিজ্ঞানের চকচকে বিশ্বাসী মোড়কে এই ব্যবসা নতুন ঢং ধরেছে।
বিজ্ঞান চর্চা জ্ঞানের আলো নিশ্চয়ই জ্বেলেছে , কিন্তু অন্তরের অন্ধকার বোধকরি আজও অনেকাংশে অবশিষ্ট রয়েছে।
সেই অন্ধকার দূর করতে না পারলে , চন্দ্র কিংবা সূর্যগ্রহনের সময় আমাদের উপবাস পালন করতে হবে। গল্পে আছে , রাহু কেতু চন্দ্র বা সূর্য কে গিলে নিচ্ছে। কিন্তু তাদের গলা কাটা গেছে , অমৃত সেবন কালে ছদ্মবেশ ধারণ কারি দানব কে চিনতে পারেন চন্দ্রদেব। অমৃত তখন মাত্র গলা পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে। গলা থেকে পেট অবধি যাওয়ার সুযোগ হলো না। তার আগেই গলা কেটে দেওয়া হলো,,,, ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেক বিজ্ঞান চর্চায় রত মানুষও, জ্যোতিষীর পাল্লায় পড়ে , ঝাড়ফুকের মিথ্যা প্রবঞ্চনায় অনেক ক্ষতির মুখে পড়েন।
সাপে কাটা রোগী কে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে গিয়ে , ওঝার দারস্থ হয়ে আজও অনেকে প্রাণ বিসর্জন দেন।
অকারণ কুসংস্কার আমাদের পিছিয়ে নিয়ে যাবে অনেক পিছনে।
তাই আমাদের শুধু বিজ্ঞান চর্চাই যথেষ্ট নয়। বিজ্ঞানমনস্ক হওয়ার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। বিজ্ঞানমনস্ক মানুষকে বিজ্ঞানের ভাঁওতা দেওয়া অসম্ভব। তাই , বিজ্ঞান চর্চার পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে ওঠা বিশেষ প্রয়োজন। তাইনা ?
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।