কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে স্বপঞ্জয় চৌধুরী

ধর্ম
যে ধর্মে মানুষ নাই
আছে ঈশ্বর
আছে ভেদাভেদ
সে ধর্ম আমার নয়।
যে ধর্মে যুদ্ধ আছে, রক্ত আছে
ঘৃণা আছে সে ধর্ম আমার নয়
যে ধর্ম আল্লাহু আকবর বলে
তরবারি তুলে মানব হত্যা হয়
যে ধর্মে জয় শ্রীরাম বলে
মানুষের জীবন রোধ করা হয়
সে ধর্ম আমার নয়।
যেখানে শিশুর কান্না ভেসে আসে
আজান ও উলুর মধ্যবর্তী উল্লাসে
রক্তাক্ত বদ্বীপ জুড়ে পড়ে থাকে
এক ও অনেক ঈশ্বরের লাশ
সে ধর্ম আমার নয়।
ধর্ম নামক পরিপুষ্ট দলিলটি
মূলত পুজিবাদী সামন্তবাদের তৈরি
একথা বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকা
মানুষগুলোই তথাকথিত ধার্মিক।
যারা ধর্মকে মাপে পোশাকে আলখেল্লায়
বেশ ও ভুসায় দাড়ি, টুপি ও সিঁদূরে।
যে ধর্মের মূলমন্ত্রে মানবিকতা নয়
মানব নয়, ঘৃণা ও শ্রেষ্ঠত্বই টিকে থাকে
সে ধর্ম আমার হয় কী করে?
প্রাণীপ্রেম ও ভালোবাসাহীনতায়
ক্ষমতা টিকতে পারে, ধর্ম নয়।
ধার্মিক নয়, মানুষ হওয়া জরুরী
ঈশ্বরের নামে আর হত্যা নয়,
মানুষের হাতে হাত রাখো
কাঁধে কাঁধ রাখো
নিজেকে দূরে রেখে, পৃথক রেখে
কতদূর যেতে চাও তুমি,
আমাদের মাঝখানে যে দেয়াল দাড়িয়ে আছে
দাম্ভিকতার মিথ্যে গাম্ভীর্যতা নিয়ে
তাকে ভেঙে ফেলো।
নির্মল পৃথিবীর চেয়ে
অগণিত মানুষের ওমের চেয়ে
পবিত্র কিছু নাই।
আমাদের জাতি এক ও অভিন্ন।
এসো পতাকাতলে
মেঘ ও দূর্বাঘাসের দলে।