|| কালির আঁচড় পাতা ভরে কালী মেয়ে এলো ঘরে || T3 বিশেষ সংখ্যায় সুমিতা চৌধুরী

দেবালয়ে দিয়ার বাতি
“আমি বিশ্বাস করি সন্তান পবিত্র জলের মতো।” বলে উঠলেন দেবীকা।
এতোক্ষণ যাঁরা তীব্র ভৎর্সনার গরল উগরে দিচ্ছিল দিয়ার প্রতি তথা তার দত্তক কন্যা সন্তানের প্রতি, দেবিকার জোরালো ব্যক্তিত্বপূর্ণ কথার কাছে তাঁরা কুঁকড়ে গেলেন। দেবীকা তার ছেলে দেব ও পুত্রবধূ দিয়াকে বললেন, “আমি ভীষণ খুশী হয়েছি তোমাদের এই সিদ্ধান্তে। একটু অপেক্ষা করো। আমার আদরের নাতনিকে বরণ করে তুলতে হবে তো।” বলে তৎক্ষণাৎ ঘর থেকে বরণডালা নিয়ে এসে বরণ করে, শাঁখ বাজিয়ে, ঘরে নিয়ে গেলেন যত্ন সহকারে। যাওয়ার সময় সর্বসমক্ষে বলে গেলেন, “যার বাবা নিজেই দেব এবং মা স্বয়ং দিয়া তার সুরক্ষা ও সর্বোপরি সম্মানের বিষয়ে আমি বিন্দুমাত্র ভাবছি না। কারণ, দেবতার আলয়ে দিয়া সদাই আপন মহিমায় ভাস্বর হয় আর সবকিছুকে নিজের আলোয় আলোকিত করে রাখে, আর দেবতাও তার আলয়ে সবকিছু সুরক্ষিত রাখে সদাই। কি তাই তো? আর এই মেয়ে তো এলো দীপাবলির শুভদিনে। অর্থাৎ পাপ সংহারে মা কালী আর শান্তি সৃজনে মা লক্ষ্মীর আবির্ভাব হলো আজ আমার এই সংসারে, আমাদের ছোট্ট আলয়ে।” দেব আর দিয়ার চোখে আনন্দাশ্রু চিকচিক করে উঠল আর মুখে ফুটল আত্মবিশ্বাসের অম্লান হাসি।