মার্গে অনন্য সম্মান সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়) (সর্বোত্তম)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার

সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১০০
বিষয় – শুধু তোমারই জন্য

অনিশ্চিত

দীপঙ্কর ওভারব্রীজ থেকে দেখল শান্তিপুর লোকালটা দমদম স্টেশনে ঢুকে গেল। ও জোরে ছুটতে শুরু করল কারণ এই ট্রেনটা ওকে ধরতেই হবে। ট্রেনে উঠে ভিড় ঠেলে কামরার মধ্যে যেতে গিয়ে দীপঙ্করের দৃষ্টি আটকে গেল কোণের দুটো মুখোমুখি সিটে। আরে ওদের কলেজের সুস্মিত আর মিতা না। পাঁচবছর পরে দেখা, ওদের দিকে হাসি মুখে এগিয়ে গেল দীপঙ্কর-“আরে সুস্মিত, মিতা তোরা? বেস্ট এভার কাপেল, কী খবর বল?” সুস্মিত মিতার দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে-“তা তোর খবর বল?” মিতা স্মিত হেসে জানলা দিয়ে ওর শূন‍্য দৃষ্টিটা মেলে দেয়।
দীপঙ্কর-“আছি একরকম, কলেজে পড়াচ্ছি, আছি বাবা-মায়ের সঙ্গে। আর প্রেমের ব‍্যাপারে তো আমি বরাবরের ফেলিওর, তাই ঝিলিকের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বিয়ে অব্দি গড়ায় নি। এখন মা পাত্রী দেখে বেড়াচ্ছে আমার জন‍্য। তা তোদের বিয়েটা কবে হল?”
সুস্মিত-“এই দুবছর আগে।” দীপঙ্কর মিতার দিকে তাকিয়ে-“আরে কলেজের ছটফটে মেয়েটা এত চুপচাপ হয়ে গেল কী করে? সুস্মিত সুখে রেখেছিস তো নাকি?” দীপঙ্করের শেষ কথাটা সুস্মিতের খোঁচার মতো মনে হল, দৃষ্টিতে ব‍্যথা ফুটে উঠল। মিতা এবার মুখ খোলে-“বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব‍্যক্তিত্বের বদল হয়, এ কথাটা জানিস না, না মানিস না।” দীপঙ্কর-” এই নামবার সময় প্রায় হয়ে এল,
তোদের ঠিকানাটা বল তো, একদিন জমিয়ে আড্ডা মারব।” সুস্মিত ইতস্তত করে-“আমাদের দুজনের ঠিকানা আলাদা হয়ে গেছে।” দীপঙ্করের বিস্মিত দৃষ্টির সামনে মিতা-“হ‍্যাঁ আজই আমাদের অফিসিয়াল ডিভোর্সটা হয়ে গেল।”

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।