মার্গে অনন্য সম্মান সুতপা ব‍্যানার্জী (রায়) (সর্বোত্তম)

অনন‍্য সৃষ্টি সাহিত‍্য পরিবার

সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ৮১
বিষয় – আত্মত‍্যাগ

ত‍্যাগ

প্রিয়ব্রত আর রুবিনা একই সাথে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ে। দুজনের মানসিকতা বেশ মিলে যায় বলে ওদের বন্ধুত্ব হতে সময় লাগে নি। তবে প্রিয়ব্রত ভীষণ আলসে হওয়ায় ওর অর্ধেক কাজ রুবিনাকে করে দিতে হয়। যেমন অ‍্যাসাইনমেন্ট তৈরী করা, প্রজেক্টের খাতা রেডি করা। ওরা দুজনেই সিভিলের স্টুডেন্ট হওয়ায় ওদের সার্ভে করার কাজও থাকে। দেখা যায় প্রিয়ব্রত যখন ঘুমে কাদা তখন ওর ভাগের সার্ভের কাজও হাতে টেপ নিয়ে রোদে গরমে ঘেমে নেয়ে রুবিনা করে দিচ্ছে। অনেক সময় অনেক জিনিস বেমালুম ভুল করে নিয়ে এসে প্রিয়ব্রত রুবিনাকে করতে দেয় আর রুবিনা তাই নিয়ে হিমসিম খেয়ে রাতের পর রাত জাগে। এই নিয়ে রুবিনার কাছে সবাই অনুযোগ করে-“করে দিস কেন ওর কাজ? আলসেটা বুঝুক, খালি নিজের কাজ অন‍্যের ওপর চাপানো।” রুবিনা উল্টে বলে-“ছাড় তো,- সামান‍‍্যই তো কাজ।” শুধু এখানেই থেমে থাকে না, বাপের সুপুত্তুর সিগারেট ফুঁকে, মদ খেয়ে বাবার পাঠানো টাকা যখন মাস পুরো হওয়ার আগেই খরচা করে ফেলে তখনও রুবিনা মুশকিল আসান হয়ে টাকার জোগান দেয়।
এভাবে দিব‍্যি ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে ভালভাবেই পাস করতে থাকে প্রিয়ব্রত। রুবিনাকে টেকন্ ফর গ্র‍্যান্টেড করে নেয় প্রিয়ব্রত, রুবিনা এতে ভালবাসার স্পর্শ পায়। রুবিনার বান্ধবীরা বিশেষবভাবে সতর্ক করে ওকে। বিশেষ করে ধর্মের বাধাকে জয় করে রুবিনাকে প্রিয়ব্রত আপন করতে পারবে কিনা সবাই সংশয়ে। কিন্তু রুবিনা আপন
খেয়ালে প্রিয়ব্রতের জন্য ধূপ হয়ে জ্বলছে। ফাইনাল ইয়ারের পর প্রিয়ব্রত কানাডায় এমএস করতে চলে যায়,
যাওয়ার আগে অবশ‍্য রুবিনাকে কিছু গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। রুবিনা নিজের শহরেই পার্ট টাইম পড়ানো আর এমটেক করা একই সঙ্গে চলে। প্রিয়ব্রত এখনো নির্লজ্জের মতো রুবিনার থেকে টাকা নেয়। কারণ জীবনযাত্রার সঙ্গে যোগ হয়েছে নাইটপার্টি, তার তো খরচা অনেক। ভালো ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুবাদে প্রিয়ব্রত অবশ‍্য ভালো চাকরিটাও পেয়ে যায়। ওখানে এক সহপাঠিনীকে মনে ধরায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশে ফেরে
বাবা’মায়ের লক্ষ্মী ছেলে হয়ে। যেদিন ওর বিয়ের আড়ম্বর সবার চোখ ঝলসে দিচ্ছে সেদিনই মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব‍্যবধানে রুবিনা ওর লাস্ট কেমোটা নিচ্ছে। নিজের প্রতি অবহেলায় অনেক দিনের লুকিয়ে রাখা ব‍্যথাটা শেষপর্যন্ত লিভার ক‍্যানসার চিহ্নিত হয়েছে।
প্রিয়ব্রতের বিয়ের খবরটা অবশ‍্য কেউ ওকে দেয় নি কারণ এই লাস্ট কেমোটা থেকে ও আর ফিরতে পারবে কিনা এ বিষয়ে ডাক্তারও আশাবাদী নয়। অতএব থাক ধূপ হয়ে ও শেষ জ্বলাটা জ্বলে যাক।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।