বচা একেবারে আমার বাইকের সামনে| আমি সজোরে ব্রেক কষে সামলে নিলাম|
-মরার ইচ্ছে থাকলে কোনো ব্রিজের তলায় দাঁড়িয়ে যা না| আমার বাইকের তলায় কেন?
মেজাজটা খচে গেছে| রাগে থর থর কাঁপছি|
-রাগ করিস না| ক্ষমা করে দে|
-আর একটু হলেই তো মায়ের ভোগে যেতিস| সেই সঙ্গে আমার সংসারটাও ভেসে যেত|
-মায়ের কাছে যাবার জন্যই তো……
-মাসীমা…………
-হ্যাঁ রে| মা কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আছে| আজ ছাড়বে| ভাবলাম তুই তো ওদিক হয়ে যাস| তাই……….
-ঠিক আছে| নে নে উঠে পড়|
আমি বাইকে স্টার্ট দিলাম| কিছুটা যাওয়ার পরই বচা বকবকানি শুরু করল|
-হ্যাঁ রে, তোরা বর্ণবিদ্বেষী কেন?
-সকালেই মাল-টাল টেনেছিস না কি?
আমার কথা কানে না তুলেই বচা তার স্বভাবিদ্ধ ভঙ্গিতে দার্শণিক সুলভ বক্তৃতা শুরু করল|
-তোরা শিক্ষিত, সমাজ গড়ার কারিগর| তোদের মধ্যে ভেদা-ভেদ, বাছবিচার! ছেলে-মেয়েরা তোদের কাছ থেকে শিখবে কি? ছেলে-মেয়েরা তো শিক্ষকদের দেখেই শেখে| ওরা তো তোদেরই অনুসরণ করে|
-বকর-বকর থামাবি?
-অভিভাবক দের কাছে কী বার্তা যাচ্ছে বলত?
তোদের প্রতি অগাধ আস্থা, বিশ্বাস বলেই তো ওরা ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের তোদের কাছে পাঠায়| আর তোরা কী না, শিশুমনে বাছ-বিচার, ভেদা-ভেদ, বর্ণবৈষম্যের বীজ বপন করছিস?
মাতালকে থামানোর চেষ্টা করা বৃথা|
-আসলে তোদের অহংবোধ বেশী| কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়ে চাস না| সমান সমান হলে যা হয়| আমি বলি কী ইগো, ডিগ্রির কচকচানি সব মন থেকে ঝেড়ে ফেল|একে অপরের দিকে হাত বাড়িয়ে বল-” বাড়িয়ে দাও তোমার হাত………….” গলা ছেড়ে গা-” ও বন্ধু , তুমি শুনতে কি পাও?”
বচা ননস্টপ বকেই চলেছে|
-তোদের মধ্যে ভেদা- ভেদের জন্যই সব প্রচেষ্টা মাঠেই মারা যাচ্ছে| দানা বাঁধছে না| জমতে জমতেও জমছে না| সব গলে জল হয়ে যাচ্ছে|
নয়-দশের টিচার, এগারো-বারোর টিচার আমার সহমর্মী|আর বল দিনরাত- হে জগদম্বে, আমার অহং নাও| আমাদের একসূত্রে বেঁধে দাও| আমাদের আন্দোলনকেও এক ছাতার তলায় নিয়ে এস|
বচার কথায় আমি বিভোর|
-আর তা যদি না পারিস চিরকাল মার খেয়েই যাবি| লোকে তোদের দিকে জুতো ছুঁড়বে, জগ ছুঁড়বে, কুকুর বলবে| ঠ্যাঁগাড়ে বাহিনী দিয়ে আলো নিভিয়ে ধোলাই করবে, জামা ছিঁড়বে, ব্লাউজ ছিঁড়বে, জলকামান দাগবে| তাই বলছি সাধু সাবধান| মনে রাখিস একতায় বল| United We Stand, Divided We Fall.