সাতে পাঁচে কবিতায় শঙ্করী বিশ্বাস

আমার বাঙলা
তুমি শুধু একুশের নও
তুমি আমার প্রতিটা দিনের শুরুর প্রথম আলোর
আদুরে উচ্চারণের ভোর।
তুমি তৃষ্ণার শীতল জল, দুরন্ত কিশোরীর
চঞ্চল পায়ের রুনুঝুনু নুপুর।
তুমি মসৃণ ঘন সাদা কুয়াশার ঘোমটায় ঢাকা
সলজ্জ সকাল ,আলসেমি মাখা
অলস সোহাগী দুপুর।
তুমি বসন্তের শিমুল, আমের প্রথম মুকুল,
তুমি গ্রীষ্মের খররোদ,বর্ষার কুল ছাপানো দুকুল।
তুমি হেমন্তের সোনালী ধান,
নবান্নের সুঘ্রানে ভরা অঘ্রান
উচ্ছল পাখির কলরিত ঐকতান।
তুমি আমার জীবনের মাতৃগর্ভে বসবাসকালীন
মায়ের মুখে শোনা প্রথম ধ্বনির অনুরণন।
তুমি আমার সুখের ঘুমের ভেতরে
চুপিসারে আসা প্রিয় স্বপ্নের একমাত্র ভাষা
তুমি শৈশবের খেলাঘর, কাগজের নৌকো,
মাটির পুতুল, সোহাগের রং তুলির বাড়ি।
তুমিই আমার কিশোরীবেলার একমাত্র দুঃসাহসী পণ
না দেখা জগতে ওড়াতে চাওয়া ঘুড়ি।
তুমি যৌবনের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা
তোমার ঝুলিতেই আমি দেখেছি
হাজার হাজার সাজানো পসরা রঙবাহারী।
তুমি আমার কাছে শুধু বইয়ের পাতায় বন্দী
কালো অক্ষরের নিথর মিছিল নও
তুমি আমার আবেগ, রাগ, ক্ষোভ, দুঃখ, অপমান, অভিযোগ প্রতিবাদের বলিষ্ঠ উচ্চারণ।
তোমারই টানে আমি কতবার ভেসে গেছি আনমনে
অজানা কল্পঅরণ্যে অকারণ।
তুমিই আমার প্রথম প্রেম ‘ন হণ্যতে’।
তোমাকে ভালোবেসে বারেবারে বিভোর হয়ে যাই
লাল মাটির শ্যামলী পথে।
তোমারই জন্য একটা আস্ত বিকেল কাটাতে চাই
নরম সবুজ কচি ধানের ক্ষেতে।
তুমি আছ বলেই সুজন মাঝি আজও গান গায়
তুমি আছ একথা রাতের তারা বলে দেয়।
তোমারই জন্য দূরে গিয়েও বারবার ফিরে আসি
তোমাকে জেনেই জামদানি, মসলিন আর বালুচি
দারুণ ভালোবাসি।
তোমারই হাত ধরে তোমারই টানে
আজ আমি শৈশব থেকে নারী।
তুমি আছ হৃদয় জুড়ে
একথা তোমার হাত ধরেই বুঝতে পারি।