T3 || লক্ষ্মী পুজো || সংখ্যায় সংঘমিত্রা ভট্টাচার্য

লক্ষ্মী কথন
শারদীয়া দুর্গোৎসবের পর আশ্বিন মাসের শেষে পূর্ণিমা তিথি তে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজোর আরাধনা করা হয়। প্রতি ঘরে ঘরেই এই লক্ষ্মী পূজো হয়ে থাকে। কোজাগরী কথার অর্থ কে জেগে আছো। কথিত আছে কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমার দিন দেবী রাত্রে খোঁজ নেন কে জেগে আছে। যে জেগে অক্ষর ক্রীড়া করে লক্ষ্মী তাকে ধন সম্পদ দান করেন।
নিশীথে বরোদা লক্ষ্মীঃ জাগরোত্তীতিভাসিনী।
অষ্টলক্ষ্মী হলেন সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর আটটি বিশেষ রূপ।
(1 )আদিলক্ষ্মী বা মহালক্ষ্মী : লক্ষ্মীর আদিরূপ বা ঋষি ভৃগুর কন্যা রূপে লক্ষ্মীর অবতার।
(2) ধনলক্ষ্মী : লক্ষ্মীর অর্থ ও স্বর্ণ দাত্রী রূপ।
(3) গজলক্ষ্মী : গবাদি পশু ও হস্তীরূপ সম্পদ দাত্রী লক্ষ্মী।
(4) ধান্যলক্ষ্মী : কৃষি সম্পদ দাত্রী লক্ষ্মী।
(5)সন্তান লক্ষ্মী : সন্তান প্রদাত্রী লক্ষ্মী।
(6) বীরলক্ষ্মী : যুদ্ধ ক্ষেত্রে বীরত্ব ও জীবনের কঠিন সময়ে সাহস প্রদান কারী লক্ষ্মী।
(7) বিজয়লক্ষ্মী : বিজয় প্রদানকারী লক্ষ্মী।
(8) বিদ্যালক্ষ্মী : কলা ও বিজ্ঞানের জ্ঞান প্রদান কারী লক্ষ্মী।
লক্ষ্মী মানে শ্রী , সুরুচি। লক্ষ্মী সম্পদ আর সৌন্দর্যের দেবী।
বৈদিকযুগে মহাশক্তি রূপে তাঁকে পূজো করা হতো।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ও বাংলাদেশে দু রকম রীতিতে পূজো করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে মাটির প্রতিমায় আর বাংলাদেশে সরাতে এঁকে লক্ষ্মীর পূজো করা হয়।
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বাংলার ব্রত’ বইতে এ সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, দেবীর কাছে ভালো ফলনের কামনা করাই এই পূজোর নৃতাত্ত্বিক কারণ। পূজো বা ব্রত কথার সাথে আল্পনার একটা সম্পর্ক রয়েছে। যা কামনার প্রতিচ্ছবি।
ওম বিশ্বরূপস্য
ভাৰ্য্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্ব্বত পাহি মাং দেবী মহালক্ষ্মী নমোহস্তুতে।
অপূর্ব