কাব্যানুশীলনে সুদীপ্ত বিশ্বাস

দু’একটা সত্যি কথা
কালো প্রজাপতিটা লাল টুকটুকে ফুলে
ডানা ঝাপটায়… ডানা ঝাপটায়…
তারপর ফুলটা প্রজাপতি…
না !…প্রজাপতিটাই ফুল হয়ে যায়।
কবিতাকে খুব যে আদর করতে হয়,
এতো যে আদর করতে হয় কবিতাকে
সেটা জেনেই মেঘেরা বৃষ্টি হয়ে ঝরে
ময়ূর পেখম তোলে।
ঘুমের ভিতরও একটা মন বেঁচে থাকে
রঙিন-রঙিন স্বপ্নের জাল বোনার জন্য।
কৃষ্ণসায়রের তীরে সেই যে তিতিরটা
এক পা দু’পা করে হাঁটত
বিকেলটা নিজের অজান্তেই সন্ধ্যা হয়ে যেত
জোনাকিরা আসত রাতের হিসেব দিতে
মনে আছে তো তোমার?
সারারাত সহবাসের পরে
ভোরের শিশিরে ভিজেভিজে
যখন গাছের প্রতিটি ডালপালা
প্রতিটি ক্লোরোফিল, জাইলেম-ফ্লোয়েম
খুব ভালোবেসে ফেলে শিউলিটাকে
ঠিক তখনই টুপ করে ঝরে পড়ে সে।
গাছের বোবা কান্নাগুলো শিশিরের সঙ্গে মিশে
সম্পূর্ণ ভিজিয়ে দেয় শিউলিটাকে
তবু মন ভেজে না শিউলির।
গাছটা জানে শিউলি একদিন ঠিক
ছেড়ে যাবে তাকে,তবু পরদিন সন্ধ্যায়
আবার সে প্রেমে পড়ে।
অনেক ঠকেছি তবু
আজ এই পড়ন্ত বিকেলে
তুমি যদি ফিরে আসো
যদি তুমি সত্যিই ফিরে আসো
মনটাকে আমি শিকল দিয়ে বাঁধলেও
ও বলবে, এসো হিয়া…এসো হিয়া…
প্রার্থনা / সুদীপ্ত বিশ্বাস
ভারত গরীব হয়ে থাক চিরকাল
থেকে যাক ভন্ড নেতা,গবেট জনতা
থেকে যাক ছাপ্পাভোট,থাক প্রহসন
ধর্মের খোলসে মুড়ে থাক রাজনীতি
‘গরিবি হঠাও’ শুধু স্লোগানেই থাক
জাতপাত বুকে নিয়ে বাঁচুক ভারত
থেকে যাক প্রতি নোটে গান্ধীজির ছবি
থেকে যাক সংরক্ষণ স্থানুর মতোই
ভন্ডনেতা দিনেদিনে যাক ফুলেফেঁপে
আমজনতার থাক জঠরে আগুন
তবুও থাকুক তারা শীতঘুমে বেঁচে
মাঝেমাঝে ভিক্ষা পেয়ে জয়ধ্বনি দিক
বেঁচে থাক ভন্ডামি,বাঁচুক ভর্তুকি
শিক্ষা বা শিল্পের কী বা প্রয়োজন?
বিজ্ঞান নিপাত যাক, ধর্ম বেঁচে থাক
ধর্মের আগুনে হোক আরও রুটি সেঁকা…