ক্যাফে গল্পে সুচন্দ্রা বসু

সমাজটা গোল্লায়
— চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলাম ওদিকে তাকিয়ে কি
দেখছেন মশাই?
সমাজটা গোল্লায় যাচ্ছে কিভাবে তাকিয়ে দেখছি। ইচ্ছে করছে দুটোকে ঠাঁটিয়ে চড় মারতে।বাসে ট্রেনে পথে চলা দায়
হয়েছে বুঝলেন।
কেন মশাই আপনার হিংসে হয় ওদের দেখে?না রাগ হয়?
— খোলামেলা এভাবে ঢলাঢলি?
-হ্যাঁ ওরা প্রেম করছে।
— আমার অধার্মিক মনে হয়।
-হোক না ভিন্ন সম্প্রদায়ের।মেয়েটা ছেলেটার থেকে বড় হলেই বা
কি এসে যায়।
— আপনার ভাবনায় অবাক হই।
— হ্যাঁ তা তো হবেন। আপনি যে কোনদিন
প্রেমের ভাষাই বুঝতে চান নি।
— আচ্ছা মেয়েটা কি বিবাহিত? সংসার করছে আবার নতুন করে মনের মানুষকে ভালোবাসছে?
-হতে পারে।
-এটাও হতে পারে ছেলেটার ক্যান্সার, বেশিদিন আর নেউ তাই প্রিয় বান্ধবীর সাথে সময় কাটাচ্ছে।
দুটো ছেলে মেয়েকে এভাবে দেখলে আপনার প্রতিবাদ করতে মন চায়।
— গর্জে উঠব না?
যখন কর্মসংস্থানের অভাবে গরীবের ছেলেটা কলেজের ডিগ্রি নিয়ে ঘুরছে আর অর্থশালী বাবার ছেলেটা HS পাস না করেই চাকরি পেয়ে ফূর্তি করছে।তখন প্রতিবাদ করেন? –আপনি তো অন্য কথা বলছেন
-মুখের উপর সত্য কথা বলেছিলো বলেই নেতার পোষা গুন্ডাদের হাতে মৃত্যু হয় ছেলেটার। ছেলেটার হয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন?
৭ বছরের বাচ্চা মেয়েটার শরীরটাকে সারারাত ধরে আপনার পাড়ার জনা, তিন পশু
মিলে অত্যাচার করলো।
তাদের আপনি চিনতেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন?
করেন নি কারণ ওই একই বয়সের একটা নাতনি আছে আপনার ঘরে।
কি সব বলছেন আপনি ছিঃ।
কেন বিদেশে থাকে যাদের ছেলে তারাও তো
পরিযায়ী। দিব্যি তারা ওয়ার্ক ফরম হোম করে
চাকরি বজায় রেখেছে।যারা শ্রমিক পরিযায়ী
তারা কাজ হারিয়ে দেশে ফিরছে।কাজ হারানো শ্রমিকদের হয়ে প্রতিবাদ করেছেন?
প্রতিবাদ করতে হলে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুন নয়তো ফিরে যান। মানুষ হয়ে জন্মেছে যারা মানুষের মত বাঁচতে দিন তাদেরও। আপনার তৈরি নিয়মে সকলকে গবাদীপশু ভেবে খুঁটিতে বাঁধতে যাবেন না।