।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় সন্ধ্যা বোস

ফাঁকি
মাত্র ষোলো বছর বয়সে একবুক আশা একচোখ স্বপ্ন নিয়ে মেয়ে টা স্বামীর সংসার করতে আসে। সব কাজেই চৌখস। রান্নাবান্না ঘরকন্না সব কাজেই সে পটু। কিন্তু তবুও মেয়েটা কেন সুখী হতে পারলো না। তার একটাই স্বপ্ন ছিলো সে যেমন মনপ্রান দিয়ে স্বামী কে ভালোবাসতো তার স্বামী ও যেন তাকে তেমন করেই ভালোবাসে। কিন্তু বুঝতেই পারতো না তার স্বামী তাকে ভালোবাসে কিনা। অথচ কোনকিছুর অভাব তার রাখে নাই। সংসারের সে একছত্র অধিশ্বরী। কিন্তু একান্তে মনটা কেন হু হু করে? অবাধ স্বাধীনতা ছিলো তার। কোন কিছুতেই স্বামী বাধা দিতো না। কিন্তু সে যে সব সময় স্বামী সঙ্গ কামনা করতো সেটাই ছিলো তার নাগালের বাইরে। কোথাও বেড়াতে গেলে বেশিরভাগ সময় ছেলে মেয়ে নিয়ে তাকে একাই যেতে হতো। স্বামী যেতো না। ফিরে আসার পর একটা কথাই শুনতে চাইতো স্বামী যেন বলে তোমাকে ছেড়ে একদম ভালো লাগতো না। না তার সে স্বপ্ন কোনদিনই পুর্ন হয় নাই। কোনদিনই সে কথা শোনার সৌভাগ্য তার হয় নি।
না বলেছিলো, ক্যান্সারের কষ্টে যখন হাসপাতালে, তখন একদিন তাকে ডেকে বলেছিলো, তোমাকে ছেড়ে এই হাসপাতালে থাকতে আমার ভালো লাগে না।
সমস্ত শরীরে এক আলাদা শিহরণ তৈরী হলো মেয়েটির।
সেকি সেই ষোলোতেই আটকে থাকা মেয়েটি? না তো! জীবনের অনেক উথাল পাথাল অনেকগুলো হতাশার ঋতু পেরিয়ে সে তো এখন আর শুধু স্ত্রী নয়। সে এখন কারো মা কারো শাশুড়ি কারো বা দিদা ঠাকুমা।
তবু কেন অমন শিহরন তুললো তার সমস্ত শরীরে? মাদলের ডুম ডুম শব্দে এ কোন ঝড়ের পুর্বাভাস? ৬১ উল্টে কি আবার ১৬তে ফিরে গেলো?