রাই সিরিজের কবিতায় সুব্রত ভট্টাচার্য (ঋক তান)

ভুলে যাবে না তো
আমাদের যখন প্রথম দেখা হবে,
তখন তুমি একটা কালো পাড়ের সাদা শাড়ি পড়বে।
দুহাত তুমি খালিই রেখো কপালের টিপটা বাঁকাইপরো।
চুলগুলো খোলাই রেখো
আমি নাহয় সাদা পাঞ্জাবি পড়বো।
পাঞ্জাবির পকেট থেকে তোমার জন্য আনা সাদা আর কালো চুড়িগুলো তোমার দুহাতে পরিয়ে দেব।
সেই সুযোগে তোমাকে একটু ছুঁয়ে ও দেখা হবে।
ভুলে যাবে না তো—
অবাধ্য প্রেমিকের মতন একটু জোর খাটিয়ে কপালের টিপটা সোজা করে দেব
লোকলজ্জার তোয়াক্কা না করে।
তারপর দুজন মিলে কোন দোকানে এককাপ চায়ে আড্ডায় মেতে উঠবো
তোমায় নিয়ে।
ভুলে যাবে না তো ?
বিকালে কোন নদীর তীরে সবুজ ঘাসে বসে আমরা একে অপরকে দেখবো।
তৃষ্ণা মেটাবো প্রিয়জনকে এতোবছর না দেখতে পাবার তৃষ্ণা।
তুমি লজ্জাপেয়ে আড়চোখে তাকাবে
আর আমি আমার লজ্জাবতির প্রেমে পড়বো আবার নতুন করে।
ভুলে যাবে না তো—-?
বিকাল হলে কোন একটা সস্তা রেস্তোরাঁয় বসে তুমি আমায় খাইয়ে দেবে,
কি পারবে না?
অন্যায় আবদার করলাম বুঝি!
হোকনা একটু বাড়াবাড়ি ক্ষতি কি
ভুলে যাবে না তো—?
যদি লোকলজ্জা ভুলে গিয়ে ভালোবাসতে নাই পারলাম তবে কেমন প্রেমিক হলাম বলো?
আমি নাহয় তোমায় পড়াবো
হাতের চুড়িগুলো
একটু না হয় সকল নিয়মের বিপরীতে একটু বেপরোয়া প্রেমিক হবো।
বিনিময়ে কিছুই চাইবো না আমি
তুমিটা ঠিক আমার হলেই হবে।
সন্ধ্যা হলে তুমি আমার কাধেঁ মাথা রাখবে
আমরা দুজন সূর্যাস্ত দেখবো
ঐ সময়ের সূর্যাস্ত নয় আমাদের জীবনের সূর্য্য ওঠার স্বপ্ন ।
আমরা স্বপ্নগুলো সব সাজিয়ে নেবে,
নতুন করে সবটা গুছাবো।
আমায় কিন্তু তোমার সেদিন পুরো দিনটা দিতে হবে
ভুলে যাবে না তো?
সন্ধ্যা হলে তোমার শহরে নিয়ন বাতির আলোয় দুজনে খালি পায়ে হাঁটবো
সেই আলোয় আমরা আমাদের গল্পগুলো গুছিয়ে নেবো।
ভুলো যাবে না তো —-?