T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় সমীর ভট্টাচার্য

আগমনি
গ্রীষ্মের দাবদাহর শেষে,
বর্ষার হাত ধরে শরৎ এলো গুটিগুটি পায়ে ;
মহামায়ার আগমন বার্তা নিয়ে।
পেঁজা মেঘমালা আকাশের কোলে,
দৌড়ে খেলে বেড়ায়।
বাংলার নদীতট-মাঠ সবে খুশিতে ছেয়ে,
কাশ ফুলেদের ধূসর ধবল শরীর দুলানো নাচে।
দোদুল্যমান তৃণদেহ গুলো
রাত জেগে মুখিয়ে থাকে,
ভোরের শিশিরে স্নান সারবে বলে ;
শাসন ভুলে শিউলীর দল লুটোপুটি খায়,
রোদ ঝরা উঠোন আর শিশির স্নাত ঘাসে।
উৎসবের মায়াময় রেশ গাঁয়ে – গাঁয়ে,
পুকুর, দিঘী আর পদ্মবনের পাঁকে।
হিমেল পরশে হৃদয়ে বাজে যে আগমনী সুর,
নর্তন রত ঢাকির ঢাকের আওয়াজের তালে তালে।
এই তো গেল মহালয়ার ভোর,
কুমোর পাড়ায় পটুদের মাঝে
পড়ে গেছে বড় ব্যস্ততার ঝড় ;
সারাদিন –শুধু মাটি, রং, তুলি আর খড়।
দেবী দুর্গার
আগমন বার্তা-য় দিগ্বিদিক অনুরণিত,
মেনকা-গিরিরাজের মতো, মর্ত্যে ও মাতোয়ারা
জন মানস ; আনন্দে উদ্বেলিত।
পরিবর্তনের পথ বেয়ে ধর্মীয় ক্রিয়াকাণ্ডে,
আজ, মানুষ আর লোকেদের জঙ্গলে ;
গনতন্ত্রের দেয়াল গুলো একেবারে নড়বড়ে।
পথের দুর্গাকে ধর্ষণ, গর্ভর দুর্গা কে হত্যা,
জন্মদাত্রী দুর্গাকে বৃদ্ধাশ্রম আর মাটির দুর্গাকে পুজা ?
শ্বশানে – কবরে ছাঁই-মাটি চাপা পড়ে,
দীর্ঘশ্বাস ফেলছে মানবতা ;
এ কেমন বোধন, কেমন আগমনি–
কেমনতর এ পূজা !
কবে পশুদের থেকে ছিনিয়ে আনবে
মানবের আগমনি বার্তা,
কবে জাগবে মানুষ – হবে কবে মানুষের জয় ?
ঐ যে রিক্সা ঘন্টি বাজায়, দাঁড়ায়ে পাড়ার মোড়ে,
চলো-
গিয়ে দেখি- এলো বুঝি উমা, বাবার দুলারি মেয়ে।