T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় শান্তা বন্দ্যোপাধ্যায়

আমার উমা…
উমা আসছে বাপের বাড়ি
একরাশ আনন্দ নিয়ে মর্তে,
ঘোটকে চড়ে আসছে
সপরিবারে,
প্রস্ফুটিত শিউলির গন্ধ মেখে।
উমার আগমনে আকাশবাতাস মুখরিত
পাড়ার মণ্ডপ নানাসাজে সজ্জিত।
আগমনী সুরে মাতোয়ারা
বাঙালীর মন,
শুভ্রতায় পূর্ণ প্রকৃতির কাশবন।
শরতের আকাশে তুলোর মতো
সাদা মেঘ ভাসে,
ভোরের বাতাস প্রাণের একতারায়
মিলনের সুর তোলে।
আমার উমা একদিকে হৈমবতী
তিনিই আবার অম্বিকা পার্বতী।
যিনি গিরিনন্দিনী উমা
তিনিই দানবদলনী মা দুর্গা।
আমার উমা একান্ত ঘরের মেয়ে,
তাঁর বোধন ঘটে আশ্বিনের শারদপ্রাতে।
শরতে নানাসাজে সেজে ওঠে প্রকৃতি,
কবির ভাষায়— ” শরৎ তোমার
অরুণ আলোর অঞ্জলি “।
প্রভাতে ঘাসের ডগায় শিশিরের উঁকি,
সরোবরে যেন হাই তোলে পদ্মকলি।
আমার উমা বাপের বাড়ি থাকেন তিনদিন
আবার ছেলেমেয়ে নিয়ে ফেরেন দশমীর দিন।
উমার আগমনে আনন্দের হাট বসে,
দেবীর পূজা পরিণত হয় মিলনোৎসবে।
তাঁর নবপত্রিকা যেন বাঙালি ঘোমটা-টানা নববধূ
তাঁরই মতো দশভূজা বাঙালী গৃহবধূ।
আমার উমা, মা দুর্গা আনন্দময়ী,
সকল শক্তির উৎস তিনিই জ্যোতির্ময়ী।
দেবীরূপে আবির্ভূতা উমা,
তিনিই ব্রহ্মার পুত্র দক্ষের কন্যা।
দেবী উমা নানা নামে পরিচিতা,
আনন্দোৎসবের মাধ্যমে তিনি আবির্ভূতা।
উমার আর এক নাম সতী,
আমার উমা দিব্যজ্ঞানী।
চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে উমা আসেন মর্তে,
সুদূর কৈলাস থেকে বাপের বাড়ীতে।
আনন্দময় হোক পুজোর দিনগুলি,
আমাদের উমাকে সাদরে বরণ করি।
“যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেন সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ”।।