|| অণুগল্প ১-বৈশাখে || বিশেষ সংখ্যায় সন্ধ‍্যা বোস

আজ একটা মিষ্টি মেয়ের গল্প বলতে খুব ইচ্ছে করছে
এই সময়ের গল্প না কিন্তু এটা। এই গল্প টা শুনতে হলে আজ থেকে প্রায় সত্তর বাহত্তর বছর পিছিয়ে যেতে হবে।
যাবেন নাকি আমার সাথে?

চলুন না আমার অতি প্রিয় ময়ূরপঙ্খী নাওয়ে করে মনপবনের বৈঠা বেয়ে সময়ের উল্টো শ্রোতে চলে যাই মেয়টির মেয়েবেলার দিনগুলো তে। দেখে আসি কেমন ছিল সেই দিনগুলো।
চার বোন তিন ভাইকে নিয়ে এক সুখের সংসারে পা রাখলাম। বড়ো মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর মেজোমেয়ের জন্য পাত্র খোঁজা শুরু হলো। এক সচ্ছল পরিবারে বিয়ের সব ঠিক ঠাক,হঠাৎ বিনামেঘে বজ্রাঘাত।দুদিনের জ্বরে পরিবারের বড়ো ছেলের মৃত্যু পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। ঐ ধাক্কা সামলাতে পারলো না মেয়েটির মা বাবা।
তাঁরা পাথর হয়ে গেল। বিয়ে ভেঙে গেলো। ছোট ছোট ভাইবোনদের সামলানো অসুস্থ বাবা মায়ের দেখাশোনার সব দায়িত্ব এসে পড়লো সেই মেয়েটার উপর।যে নাকি কদিন আগেও বিয়ের স্বপ্নে মশগুল ছিল।ভাগ‍্যের কি নির্মম পরিহাস,
আস্তে আস্তে দিন যায় মাস যায় বছরও গড়িয়ে যায়। মেয়েটার বয়স বাড়তে থাকে। একসময় বাবা মা সুস্থ হলো। কিন্তু ষোলোর সেই লক্ষ্মীপ্রতিমার মতো মেয়েটি তখন তেইশে পৌঁছলো। গ্রামাঞ্চলে সেই সময় তেইশ বছরের আইবুড়ো মেয়ের পাত্র কোথায়? হোক না সে যতই সুন্দরী।
না পাত্রের অভাব হলো না। সদ্য বিপন্তিক হয়েছেন রায় মশাই।পাঁচ সন্তান সহ তিনি তখন অথৈ জলে। ছোট মেয়ে আর ছেলে তখন খুবই ছোট। তিনি এগিয়ে এলেন ঐ অনুঢ়া কন্যা টিকে উদ্ধার করতে। নাকি নিজেই উদ্ধার হলেন বলা মুশকিল।
কারণ তখন তাঁর খাওয়া পড়া দিয়ে একজন আয়া কাম রাধুনীর খুব দরকার ছিল। যে ছেলেমেয়েদের মানুষ করবে সংসার সামলাবে রান্না করে খেতে দেবে আর কি চাই? আমাদের এই পোড়া দেশে এমন ঘটনা ভুড়ি ভুড়ি আছে। এ আর এমন কি!
চললো মেয়ে রনে চললো সবাই কে কাঁদিয়ে। (মেয়েদের বিয়ের পর স্বামীর ঘরে যাওয়া তো যুদ্ধে যাওয়ার সামিল ই,বিশেষ করে সেই সময়ে) কিন্তু সে কি খুব সহজে ফুল বিছানো রাস্তায় হেঁটে স্বামীর সংসারে এলো? প্রায় সমবয়সী মেয়ে কি সহজে সৎ মাকে মেনে নিলো?
বিয়ে হয়ে এসেই পাঁচ সন্তানের জননী!!!!
তার মধ‍্যে ছোট যে ছেলে সেতো এযুগের ন‍্যাপি পড়া বাচ্চার সমান। মাত্র দুই বছর বয়স। তার উপরে তিন দিদি এক দাদা।বাপরে কি করে ঐ মেয়েটার ফুলশয‍্যা হয়েছিল খুব জানতে ইচ্ছা করে।
কি ভাবেই বা পাঁচ সন্তান কে আপন করে নিল????
এটাই হয়ত ঐ মেয়েটার জীবনে সবথেকে বড়ো চ‍্যালেঞ্জ ছিল। কারণ বড়ো মেয়ে প্রায় তারই সমবয়সী।
কিন্তু না!মেয়েটা পেরেছিল,সত‍্যি পেরেছিল তাদের সবার মন জয় করতে। সবাই ঐ মেয়েটাকে মা বলে আঁকড়ে ধরেছিল।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।