গদ্যের পোডিয়ামে সরস্বতী বিশ্বাস

বাধ্য বাধকতা
মেয়ে তুমি যতই শিক্ষিত হওয়া কেন, সেই কাঠের পুতুল হয়েই থাকতে হবে তোমাকে।সমাজ থেকে পরিবার কেউ তোমার পিছু ছাড়বে না কথা শোনাতে। তুমি হাজারটা ভালো কিছু করলেও সামান্য প্রশংসাই পাবে,যা ক্ষনস্থায়ী।কিছুক্ষণ পরে সেটা ভুলে যাবে।একটা ভুল করে দেখ একবার,কথা শোনানোর অভাব হবে না।
সব বাধ্যবাধকতাই কেবলমাত্র মেয়েদের জন্যই।আধুনিক এই সভ্যতাই আজও তা প্রমাণ হচ্ছে বারেবারে।সমলিঙ্গের কথা আমরা বলি ঠিকই, আদৌ কী আমরা মেনে চলি ??? কতটুকু স্বাধীনতা দিয়েছি তাদের ভেবে দেখলেই অবাক লাগে।
“বিবাহিত হোক কিংবা অবিবাহিত
মেয়ে তোমাকে শুনতেই হবে প্রতিপদে কটুকথা।”
আচ্ছা, আমার কী একবারও ভেবে দেখি চারদেওয়ালের মধ্যে বন্দী থাকলে তার মানসিক অবস্থা কী হতে পারে???আচ্ছা,লকডাউন এর সময় তো আপনারাও ঘর বন্দী হয়েছিলেন তখন কেমন লাগছিল আপনাদের অনুভূতি??? সংসারের নানান দায়িত্ব কাজকর্ম শেষে যখন নিজেকে ভালো রাখার জন্য কিছু করা হয়,তাতেও কিছু মানুষের গা জ্বলে যায়।সবথেকে বেশি খারাপ তখনই লাগে যখন প্রিয়জনেরা এসব কথা বলে।কাউকে খারাপ বলার আগে নিজেকে নিজে বিচার করুন, আপনি কতটা ভালো আর খারাপ।আর একটা কথা মানুষের সাথে মিশে,তার সবকিছু জেনে তবেই বিচার করবেন,সেই মানুষটা ভালো না খারাপ। এখন তো সবই টাকা-পয়সার খেলা।
প্রচলিত একটা কথা শুনে থাকি “সোনার আংটি, আবার বাঁকা”। হায়রে সমাজ, কোথায় আছি আমরা !
নিজেকে ভালো রাখার জন্য কেউ যদি পাগলামি করে তাতে অসুবিধা কোথায়??অত্যন্তপক্ষে কাউকে জ্বালাতন তো করে না,লোকের সমালোচনা তো করে না,আর লোকের হাঁড়ির খবরও নিতে যায় না।সব থেকে হাস্যকর লাগে তখন, যখন দেখি আপনারা তাদের জাস্টিফাই করতে আসেন।তারপর আসে স্যোশাল মিডিয়া।
যখন কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে স্যোশাল মিডিয়াতে সেভাবে অ্যাকটিভ থাকতো না তখনও তো কথা বলতেন তাদের।মর্ডান হতে শেখেনি,যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না আরও কত কী…,আবার ফেসবুকে কিছু অ্যাডাল্ট মিম শেয়ার করলে, আর সেটা যদি কোনো মেয়ে করে তাহলে তো আর কিছু বলারই থাকে না।আপনাদের এই বোকা বোকা কথা খুবই হাস্যকর।ভালো কোনো জিনিসে আপনারা সহযোগিতা করেন না,মন্তব্য করেন না।এমনকি সমাজে কিছু খারাপ কাজ হলেও সেটা সততার দ্বারা প্রতিবাদও করতে পারেন না,সাহায্য করতে পারেন না। অথচ অন্যের পেছনে কাঠি করতে ঠিক চলে আসেন।আপনাদের এতো আগ্রহ কীসের পরের ব্যাপারে জানার।আগে দেখুন নিজে বা নিজের পরিবার ঠিক আছেন কিনা,তারপর না হয় অন্যের খোঁজ খবর নেবেন।এসব মানুষেররা তো অনেক ভালো যারা অন্যদের বিরক্ত না করে নিজেদের পছন্দগুলোকে মূল্য দেয়,কারোর জীবনে হস্তক্ষেপ না করে।একা থাকতেই বেশি ভালোবাসে,যখন যেটা ভালো লাগে তখন সেটাই করে কাউকে বিরক্ত না করে,নিজেকে ভালোবাসে।এদের দেখেই আপনাদের শেখা উচিত।
আর মেয়ে যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয় তখন বলা হয়, “মেয়ে বড় হয়েছে উপযুক্ত পাত্রের হাতে সম্প্রদান করুন” আবার কোন বড়দের কথায় যখন সেই মেয়েটা প্রত্যুত্তর দেয় তখন বলা হয়” তুমি এখন ছোট না, বড়দের কথায় নাক গলাতে নেই” সত্যিই খুবই হাস্যকর।কতদিন লাগবে আর পরিবর্তন হতে ????
মনে রাখবেন সে আর যায় করুক না কেনো নিজেকে ভালোবাসতে জানে।যখনই সময় পাই সেটাকে কাজে লাগায় পি.এন.পি.সি না করে।অন্যদের মতো সোঅফ করে না।নিজের ভালো লাগা,মন্দ লাগা,হবিস,প্যাশন গুলোকে গুরুত্ব দেয় অন্যদেরকেউও সচেতন করে।
একটা কথা আমরা মেয়েরাই মেয়েদেরকে হিংসা করি,আর অন্য লিঙ্গের কথা তো বাদই দিলাম।আজ এই শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও,এতো শিক্ষিত হয়েও।কেনোকিছু ছেলেরা করলে দোষ হয় না।কিন্তু একটা মেয়ে যদি কিছু করে দোষ হয়ে যায়।সমাজের চোখে খারাপ হয়ে যায়।এরজন্য দায়ী কে,আমরা নিজেরা..,মানসিকতা এখনো বদলাতে পারিনি এখনো,কিছু হলেই মেয়েদের শুনতে হয় বিয়ে দিয়ে দাও মেয়েকে।বাহ্ রে সমাজ।কিছু করার সময় মেয়ে ছোট বাচ্চা,আর বিয়ের কথা উঠলে মেয়ে বড়ো হয়ে যায়।বাহ্ রে সমাজের ভাবনা চিন্তা..,একমাত্র আমরাই পারি সমাজকে বদলাতে, তারজন্য চিন্তা ভাবনাটা উচ্চ লেভের দরকার…
মেয়েদেরকেও কিছুকিছু ক্ষেত্রে তাঁদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে,,, বিশেষ করে কোনো মেয়ের বিষয়ে যখন কথা হয় আগে কিন্তু নেগেটিভ চিন্তা একজন মহিলাই করে, সমাজ শুধু ছেলেদের নিয়ে তো না উভয় কে নিয়ে,, পরিবর্তন, মানসিকতা উভয় এর প্রয়োজন। এখনো আমাদের অনেক পরিবারে মেয়ে হলে বড়োরা আশীর্বাদ স্বরূপ তার বিয়ে যেন ভালো ঘরে হয়, ভালো বর পাই এইগুলো বলে থাকে, কিন্তু কেউ বলে না সেই মেয়েটিকে তুমি আগে বড়ো হও,নিজে ইনকাম করো তারপর বিয়ে করবে,, যেটা ছেলেদের বলা হয় সাধারণত,,, মেয়েদের বিয়ের পণপ্রথা ছেলের মা এর বেশি দাবি থাকে অনেক সময়, রাতে দেরি করে বাড়ি ফিরলে সেটা পাশের বাড়ির কাকিমার চোখেই কিন্তু আগে পরে। একটা মেয়ে ছেলে বন্ধু বাড়িতে আসবে, বা বাড়ি পৌঁছে দেবে এটা সমাজ কি বলবে ভেবে এখনো অনেক মা চিন্তা করে।
এরজন্য ছোটো থেকে ছেলে কে রান্না বাটি কিনে দিন,,, পুতুল খেলনা, রুটি বেলা, বাসন গোছানো,, যেইগুলো সে পারে,,, বাড়ির কাজ মানে যে মেয়েকেই করতে হবে এমন নয়। এই ছোট, ছোট জিনিস গুলো যতটুক পারেন এখন থেকেই শেখান।আর মেয়েদেরকেও ছেলেদের যাবতীয় কাজ শেখান যতটা পারবেন,তবে ভবিষ্যতে সবার মন মানসিকতা পরিবর্তন হবে সমাজে পরিবর্তন আসবে।