T3 || কালির আঁচড় পাতা ভরে, কালী মেয়ে এলো ঘরে || লিখেছেন সংঘমিত্রা ভট্টাচার্য

উৎসবের রাত
আজ তুমি নেই অনেক গুলো বছর।
চারিদিকে দীপাবলির আলোতে ঝলমল করছে শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত।
তবুও আমার বুকের ভেতরে সেই অমাবস্যার আঁধার।
বেশ ছিলাম আমরা।
আজও সেরকম থাকলে মন্দ হতো না।
একদিন তোমার অস্তিত্ব আমার কাছে প্রবল প্রাসঙ্গিক ছিল।
আজও তেমনি অস্তিত্বহীনতায় তোমাকে অনুভব করি আরও বেশি।
একদিন তোমার অস্তিত্ব যেমন ভরিয়ে তুলতো আমায় অকারণ আবেগে।
আজ তোমার অনুপস্থিতি ভরিয়ে তোলে চরম শূন্যতায়।
তবুও তোমার নাম ধরে এতদিন খুঁজেছি তোমায়…
শিশিরের ভোরে জনতার ভীড়ে আবার কখনো গঙ্গার তীরে বটের নিবিড় ছায়ায়।
তারপরে খুঁজেছি দেহের ভেতরে তন্ন তন্ন করে।
একদিন ছিলে তুমি হেমন্তের হিমেল রাতের সহচর হয়ে।
নক্ষত্রের কানে কানে কেটেছিল আমাদের সোহাগ মাখা রাত্রি যাপন।
আজ দীপাবলি আলোর পসরা নিয়ে এসেছে।
তবুও আমার বুকেতে ক্ষত।
এখনো মৃত্তিকার সুরাপাত্রে মদিরার এক এক ফোঁটায় আমি পরিপূর্ণ হই কুমারী রাতের মতন।
তারপর বাজি ধরা জীবনে নানান স্বাদের বাজিকে ওরাই পোড়াই মহাধুমধাম করে।
এখানে মানুষ কম ফানুস বেশি।
এইভাবে আমরা দিনান্তের অবসন্নতাকে বারুদের ধোঁয়ায় ভরিয়ে তুলি।
তাই চারিদিকের বারুদের পোড়া গন্ধে আমরা আমাদের ভেতরের বহুদিনের ক্ষয়ে যাওয়া ঘুণ ধরা সত্তার উৎসব পালন করি।
তুমিও কি এই ভাবে ভাব?
এইভাবে খোঁজ ও আমাকে এই আলোর উৎসবের রাতে?