মার্গে অনন্য সম্মান সুচন্দ্রা বসু (সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার

সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব ৯৯
বিষয় – আবেগ / সৎ-অসৎ / দৈনন্দিন

ফ্রেন্ড নাকি লাইফ পার্টনার

রিয়াজ অবসর সময় কবিতা লেখে।কবিতা লেখা তার নেশা।কিন্তু শুধু কবিতায় তো পেট ভরে না।তাই জীবিকা হিসাবে সে শাড়ির
ব্যবসা বেছে নেয়।এক বন্ধু মারফৎ জানতে পারে বাজারে চুমকি বসানো শাড়ির চাহিদা খুব। তাই রিয়াজ শাড়িতে চুমকি বসিয়ে বড় বড় দোকানে সাপ্লাই করার সিদ্ধান্ত নেয় ।রিয়াজ প্রথমে নিজের হাতে কাজ করত।তার কাজের চাহিদা বাড়ায় গ্রামের মহিলাদের দিয়ে সে কাজ করিয়ে নেয়,শাড়ি প্রতি ৫০টাকা তাদের মজুরির দেয়। তাতে মাঝখান থেকে রিয়াজের ১০ টাকা লাভ থাকে। রিয়াজ ফেসবুকে নিজের টাইম লাইনে শাড়ি বিষয়ক বিজ্ঞাপন দিয়ে যোগাযোগের মাধ্যম রাখে।মাঝে নিজের কবিতাও পোষ্ট করে।

একদিন রুণা ঘুম থেকে উঠে বিকেলবেলা মোবাইল খুলেই রিয়াজের বিজ্ঞাপনটা চোখে পড়ে তার।সে দেখে বিজ্ঞাপনের নীচে ছোট ছোট কবিতা। সে রিয়াজের টাইমলাইনে ঢুকে তার কবিতাগুলো পড়ে । তার দু’একটি কবিতা পড়ে রুণার ভালো লেগে যায়।রোজ-ই সে
পড়ে নতুন নতুন মন মুগ্ধকর কবিতা। সে যেন কবিতার প্রেমে পড়ে যায় এবং তার দেওয়া বিজ্ঞাপনের চুমকি বসানো শাড়িগুলোর কাজ রুণার পছন্দ হয় খুব।
ভাবে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট যদি পাঠানো যায়। কিন্তু সাহস হয় না তার।।
একদিন সে ওই কবিতা আর শাড়ির বিজ্ঞাপনের
নীচে কমেন্ট বক্সে সবাইকে মন্তব্য করতে দেখে সেও মন্তব্য লিখে রিয়াজকে জানায় যে,’ আপনার
শাড়িরগুলো আর তার সাথে কবিতা খুব সুন্দর।’

রিয়াজ প্রশ্ন করে আপনি কবিতা পড়েন?
রুণা লেখে হ্যাঁ মাঝে মাঝে পড়ি।
রিয়াজ জানতে চায় তার কবিতাগুলো পড়ে কেমন লাগে?
রুণা বলে আপনার দারুণ প্রতিভা।
এরপর রিয়াজ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়।
তাদের মধ্যে সুপ্রভাত বিনিময় চলে।
ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
রিয়াজ মেসেঞ্জারে জানতে চায় আপনার
পরিবারে কে কে আছে।
সবাই আছেন।
সবাই মানে?
স্বামী সন্তান।
আপনার কে কে আছেন?
আছে অনেকেই।
মানে।
রিয়াজ বলে আত্মীয় স্বজন আছে।তারা,যে যার
মতো আলাদা থাকে।আমি মাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকি।
টাইমলাইনে শাড়ির বিজ্ঞাপন দেখেছি।
হ্যাঁ ওটা আমার ব্যবসা।
ও আপনার শাড়ি সাপ্লাই-এর ব্যবসা আছে?
হ্যাঁ বাড়ি থেকেই করি।আমি
অনেক মেয়েদের দিয়ে এই শাড়িতে চুমকি বসিয়ে
তারপর দোকানে সাপ্লাই করি।
হ্যাঁ শাড়িগুলো বেশ নজরকাড়া।

রুণার স্বামী ক্যান্সার আক্রান্ত। কয়েক বছর ধরেই
ভুগছে।কেমো দিতে হয়।
ছেলেটা সাত বছরের। চিকিৎসা ও সংসার খরচ চালিয়ে রুণা এখন সর্বশান্ত।কিছু একটা না করলে
আর চলছে না তার।কিন্তু কি করবে সে ভেবে পাচ্ছে না কিছু।
সেই সময় মেসেঞ্জারে মেসেজ এলো।
দেখল রিয়াজের মেসেজ।
লিখছে কেমন আছেন ম্যাডাম?
ভালো নেই।
কেন কি হল আবার?
রুণা তার প্রশ্নে কেমন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে।
সে সংসারের সব কথা তাকে খুলে জানাল।
বলল এখন কি করব বুঝতে পারছি না।
রিয়াজ লিখল, আপনি ম্যাডাম শাড়িতে চুমকি
লাগানোর কাজ করতে পারেন।দিনে দুটো তিনটা
শাড়িতে কাজ করতে পারলে ঘরে বসেই কিছু টাকা আয় হবে। রুণা ভেবে দেখল প্রস্তাবটা মন্দ না।সে বলে একটু ভেবে বলব।

দিন সাতেক পরে রিয়াজ রুণাকে মেসেঞ্জারে জানায়,কাজটার ব্যাপারে কি ভাবলেন?
রুণা লিখে জানায় আমি তো রাজী।কিন্তু
আমি তো আপনাকে চিনি না , আপনার বাড়ির ঠিকানা জানি না।

রিয়াজ তখন লেখে আমি লোক দিয়ে আপনার বাড়িতে শাড়ি আঠা চুমকি পাঠিয়ে দেব।কাজ হয়ে গেলে জানালে, বাড়ি থেকে আবার ওই লোক গিয়ে নিয়ে আসবে।আপনার ঠিকানাটা পাঠিয়ে দেবেন।

এভাবে শাড়ির কাজ শুরু করে রুণা।
ধীরে ধীরে দু’জনের বন্ধুত্ব গাঢ় হয়ে ওঠে।

রুণাও এরপর নিজের বাড়িতে মহিলাদের নিয়ে সংগঠন তৈরি করে। উদ্যোগী হয়ে অনেক মেয়ে এগিয়ে এসেছে। রিয়াজের সঙ্গে বন্ধুত্ব না হলে রুণা ব্যবসায় নামতে পারত না।
রুণার স্বামী কেমোথেরাপি চলছিল।তবে সে আর
সুস্থ হয়ে ওঠেনি।একদিন হঠাৎ মারা যান।
এরপর রুণা রিয়াজের কাছ থেকে বেশি বেশি
শাড়ি সংগ্রহ করে কাজ করতে থাকে।শাড়ির কাজের মজুরি বাড়ে।আরও অনেক মেয়ে রুণার সঙ্গে কাজ করতে থাকে। রুণার কাজে রিয়াজের
ব্যবসারও উন্নতি হয়।

বন্ধুত্ব যে কখন প্রেমের দিকে গড়িয়েছে তা ওরাও টের পায়নি । বলি বলি করেও রিয়াজ কথাটা বলেতে পারে না।বলতে গিয়ে কথাটা মুখে এসে আটকে যায়। রুণা তার ম্যাসেঞ্জারের লেখা দেখে কিছুটা বুঝতে পারে।কিন্তু নিজেকে ধরা দেয় না।প্রেমের আবেগে বেগ কতকাল আর ধরে রাখা যায়। একদিন দুজনেই দুজনের কাছে ধরা পড়ে যায়।
ফেসবুক ফ্রেন্ড আর কতদিন পর্যন্ত তারা ফেসবুক ফ্রেন্ড হয়ে থাকবে?

নাকি শিগগির লাইফ পার্টনার হতে চলেছে?

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।