যাবে নাকি-তে শুভদ্বীপ ভট্টাচার্য

মন্দির আর কারুকার্যময় স্থাপত্য দেখতে খাজুরাহো থেকে মাদুরাই বা চিদাম্বরম, অনেক যায়গাতেই যাওয়া যায়। তবে অসম্পূর্ণ ভাঙা মন্দির দেখতে যাওয়ার লোক মনে হয় বেশি পাওয়া যাবে না। এমনই এক অসম্পূর্ণ মন্দিরেই রয়েছে ভারতের বৃহত্তম শিবলিঙ্গগুলির মধ্যে অন্যতম ভোজেশ্বর মহাদেব। মধ্যপ্রদেশের ভোজপুরে অবস্থিত মন্দির।
ইতিহাস বলছে একাদশ শতকে পারমার মহারাজ ভোজের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল মন্দিরের নির্মাণ কাজ। তবে কোনো অজ্ঞাত কারণেই মন্দিরটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বর্তমানে মন্দিরটি রয়েছে Archaeological Survey of India-র তত্ত্বাবধানে। 2015 সালে ভারত সরকারের সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য হিসাবে ভোজেশ্বর শিবমন্দির National Tourism Award-ও পেয়েছে।
পাহাড়ী টিলার উপর অবস্থিত মন্দির। যদিও মন্দির বলতে শুধুই বিশাল গর্ভগৃহ। ভিতরে 18 ফুট উচ্চতার শিবলিঙ্গ, যা নাকি একটা মাত্র পাথর কেটেই তৈরি। বাইরে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে রয়েছে পাথরের ছোট বড় টুকরো, নকশা আর থাম। এগুলো নাকি মন্দির তৈরির সময় আনা হয়েছিল; আজও ব্যবহার হয়নি। আমরা যখন পৌঁছলাম তখন প্রায় দুপুর। গরমের দুপুরে দর্শনার্থীর সংখ্যা সাধারণের থেকে আরও কম। কিছু যাত্রীর দেখাদেখি আমরাও পুজো দিলাম শিবলিঙ্গের বেদিমূলে। শুনেছি বর্তমানে একটি অস্থায়ী ছাদ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে ASI- এর পক্ষ থেকে। তবে যখন দেখেছিলাম, মন্দিরের কোনো ছাদ বা শিখর ছিল না। খোলা আকাশের নীচে বিশাল শিবলিঙ্গ; বর্ষার সময় প্রাকৃতিক ভাবেই হত মহাদেবের অভিষেক।
রুট ডিরেকশন: কলকাতা থেকে ট্রেনে মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল। সেখান থেকে গাড়িতে ভোজপুর।