মার্গে অনন্য সম্মান সুচন্দ্রা বসু (সেরার সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ৯৪
বিষয় – দান
শ্রেষ্ঠ দান
বালুকাবেলা বৃদ্ধাশ্রম থেকে বৃদ্ধ দম্পতির আশীর্বাদ নিয়ে অভীক ও নীলাঞ্জনা বাড়ি
ফিরেছে।বাড়ি ফেরার পরেই ওই বৃদ্ধাশ্রম থেকে
ফোন আসে। ফোনে বৃদ্ধা জানতে চায় এখানে
যে আমাকে রেখে গেলে সেই খরচ কে বহন করবে?
সে নিয়ে আপনাকে কিছু ভাবতে হবে না।
আশ্রমের কর্মাধ্যক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে।
বেশ আমি একটা কথা বলতে চাই।আমি বাড়ি
থেকে বের হওয়ার সময় আমি আমার বাড়ির
দলিলটা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। সেটা যদি
কোন কাজে লাগে।
এই ভেবে ফোন করলাম।
তোমার মঙ্গল হোক। বলে ফোন রেখে দিল।
পেশায় গাড়ির সার্ভিস সেন্টারের কর্মী তপন ছিল
অভীকের ছেলেবেলার বন্ধু। তপন মর্জিনা নামে এক মুসলিম মহিলাকে ভালোবাসত।দুজনের
পরিবারের অমতেই তারা বিয়ে করেছিল ।তাদের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি তাদের দুই পরিবার। কোন যোগাযোগই রাখেনি তারা ।মর্জিনা একটি পার্লারে কাজ করত।
বিয়ের পরে মাঝে মাঝেই জ্বর হত তার।
ডাক্তার দেখাতে গিয়ে,ডাক্তারের নিঅর্থ দ্দেশে কয়েকটা পরীক্ষা নীরিক্ষার পর জানা গেল তার ব্লাড ক্যান্সার।
ক্যানসারের চিকিৎসায় জলের মতো টাকা খরচ হতে থাকে কয়েকলক্ষ টাকা দেনা হল আত্মীয় স্বজন প্রতিবেশিদের কাছে।সে সময় তাদের পাশে এসে দাঁড়ায় তার বন্ধু অভীক।এমন অনেক বন্ধু তার পাশে থেকে আর্থিক সাহায্য করলেও নিজের পারিবারিক কাউকে না পাওয়ায় মানসিকভাবে তপন অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসকও তাদের সাহায্য করেন। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে কেমো নেওয়ার পরেও মর্জিনা বাঁচল না।।তপন
আরও ভেঙে পড়ল। সর্বশান্ত
হয়ে মানসিক অবসাদে ভোগে তপন। অভীককে সে সবসময় কাছে পেয়েছে।নিজে অবসাদগ্রস্ত হওয়ায় সে সব দায়িত্ব অভীকের হাতে তুলে দেয়।এবং তাকে বলে তার ফ্ল্যাট বিক্রি করে যেন সকলের সব ধার দেনা শোধ করে দেওয়া হয়।
অভীকও সেইমতো কাজ করে।
একদিন বিষন্ন মনে অন্যমনস্কভাবে হাঁটতে হাঁটতে
ট্রামে চাপা পড়ে সে।স্থানীয় লোকেরা হাসপাতালে
নিয়ে গেলে সেখানে ভর্তি করে নেওয়া হয়।সংবাদ
পেয়ে অভীক সেখানে ছুটে যায়।তারপর নিয়মিত
সেবাযত্ন করে।মৃত্যুর সঙ্গে প্রাণপণ লড়াই করে
সে দুদিন পরে মারা যায়।অভীকের আর শেষ
রক্ষা করা হল না।
ধার দেনা মেটাবার পর যা টাকা ছিল সেটাই অভীক বৃদ্ধ দম্পতির জন্য
বালুকাবেলায় স্থায়ী আমানত হিসাবে জমা দিয়ে দেয়।
এইসমস্ত ঘটনা আশ্রম কর্মাধ্যক্ষের কাছে জানতে পেরে বিশ্বাস করে তাদের বাড়ির দলিল অভীকের হাতে তুলে দেয়। তাকে বলে
বাড়িটা বিক্রি করে যেন প্রাপ্য সব টাকা ক্যানসার হাসপাতালে দান করে সে। এই কথা শুনে শ্রদ্ধায় অভীকের মাথানত হয়ে আসে বৃদ্ধ দম্পতির সিদ্ধান্তের প্রতি।