আজকের লেখায় সুকন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়

হালখাতা

পুবের আকাশ ফরসা হবার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই রঙচটা সাইনবোর্ডের ওপর এলোচুল দানবীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল যুবতী গ্রীষ্মের রাঙা রোদ্দুর।
ওই সাইনবোর্ডের নিচে, সিঁদুরকৌটোর মতো চিলতে ঘরের কোণে তেলচিটে কুলুঙ্গিতে ক্ষয়ে যাওয়া পুরোনো সিদ্ধিদাতা পরলেন নতুন টিপ।
এবড়োখেবড়ো আধভাঙা চৌকাঠে পড়ল লক্ষ্মীর পায়ের ছোট্ট আলপনা, শ্রীহীন দোরগোড়ায় স্বস্তিকচিহ্ন বুকে নিয়ে বসল মঙ্গলঘট— তার মাথায় আম্রপল্লব, তার উপরে স-শিষ ডাব।
ক্ষয়াটে হাতে দীন শাঁখাপলা গুছিয়ে দেয় নতুন বেতের চ্যাঙারি— তাতে গাঁদার মালা, শীর্ণ ধূপকাঠি আর গুঁজিয়ার প্যাকেটের পাশে উঁচু হয়ে থাকে লাল শালু মোড়া খাতা।
‘হে মা, এইবার জমা আর খরচে ম্যালা গরমিল রেখো না মা গো— এই বছরটা য্যানো একটু সুখের মুখ দেখতে পাই’—

রুক্ষ তাপে শুকিয়ে গিয়েছে দূর্বাদল, ক্ষীণা হয়েছে বহতা স্রোতস্বিনী, বিদ্রোহী ধুলোর ঘূর্ণি উড়ছে রাজপথে।
শুধু মাথায় রাঙা মুকুট নিয়ে রুদ্র বৈশাখের বিজয়কেতন উড়িয়ে দিয়েছে কৃষ্ণচূড়া— হতাশ্বাস, নির্জীব নাগরিককে মনে করিয়ে দিচ্ছে, আজ মলিন পুরাতনকে ত্যাগ করার দিন, আজ যে হালখাতা — আজ পয়লা বৈশাখ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।