পাঁঁচ বছর পর
শ্মশানে গেলাম, সেদিন
পাড়ার ছেলেটি, অকালে ঝরে গেল,
“স্বর্গরথ” চলছে, নিথর শায়িত মাথা দুলছে, দুলছে,দুলছে
এদিক-ওদিক, ওদিক-এদিক
যে মুখে খই ফুটত কথার
সেই মুখের উপর
কিছু শুভ্র ফুটন্ত খই
উড়ে এসেছে বাতাসে,
খই আর হরিধ্বনিতে
যাত্রা শেষ হ’ল, দেহ গেল চুল্লিতে।
খুঁজছিলাম হারু-তান্ত্রিককে
ওই শ্মশানেই থাকে
দেখেছিলাম পাঁঁচ-বছর আগে,
দূরে অশ্বত্থের নিচে ওই যে…
ক্ষীণকায়, লাল চেলি, মাথায় জটাজুট
আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকলো,
গেলাম
বললো, “দে তো পঞ্চাশ টাকা
গাঁজা গেছে ফুরিয়ে। ”
দিলাম। কোত্থেকে নিয়ে এল।
মারলো লম্বা টান, বললো,
“মড়া পোড়ার গন্ধ আর গাঁজার গন্ধ
যখন মেশে,…আহা…”
শিউরে উঠলাম।
পালাতে গেলাম,
হারু-তান্ত্রিক বললো,
“দাঁড়া, কতদিন পরে এলি?”
বললাম,”পাঁচ বছর।”
নিমিলিত চোখে সে বললো,
“এর মাঝে আর তান্ত্রিক দেখিস নি?”
বললাম, “না, আমি একমাত্র এই
গাঁজাখোর, লাশভক্ত, নিষ্ঠুর
হারু-তান্ত্রিককেই দেখেছি।”
এরপরই ঘটল এক অপ্রত্যাশিত ব্যাপার
ছিলা ছেঁড়া ধনুকের মত দাঁড়িয়ে উঠলো হারু-তান্ত্রিক। তীব্র চিৎকার করে উঠলো,”আর কোন তান্ত্রিক পাঁচ বছরে দেখিস নি!!
দেখিস নি ঠিক পাঁচ বছর পরে পরে
এদেশে জনগন সব তান্ত্রিক হয়ে যায়?
মড়ার হাড় থেকে বার হওয়া কালো রসের মত কালি লাগাস নি আঙুলে!
ধুসসস শাল্লা…..
কোন্ মানুষ মরলো, কোন্ দেশ শেষ হয়ে গেল, কিচ্ছু যায় আসে না এদের।
এর থেকে শ্মশান ভালো, গাঁজা ভালো
মড়া ভালো…”
বলে হঠাৎ মাথার উপর হাত ঘোরাতে ঘোরাতে ঘোরাতে
ছুটতে লাগল হারু, চুল্লি-ঘরের দিকে,
চিৎকার করতে করতে
“গণ-তান্ত্রিক, গণ-তান্ত্রিক, গণ-তান্ত্রিক…. “