ক্যাফে কলামে সঙ্কর্ষণ

সেই একই প্রশ্ন পুনরায় তোলার আগে অন্ততঃ এটুকু স্মর্তব্য যে এই একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবীতে এমন দেশও বর্তমান, যেখানে সমালোচনা দুরস্ত, রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপের প্রতি নিছক সন্দিহান হ’য়ে প’ড়লেও ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের চরমদণ্ড নিশ্চিত।

অর্থনৈতিক প্রেক্ষিতে আমরা তাদের তুলনায় না’ই আসতে পারি, তবে যেকোনো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করার বিষয়ে আমরা কয়েক যোজন এগিয়ে থাকবো। যদিও একথা সত্য যে মতামতের আধিক্য যেকোনো উদ্দেশ্যকে লঘু ক’রে তোলে।

শ্রী সন্তোষ রাণা স্বয়ং বামপন্থী হ’য়েও এই প্রশ্ন তুলেছেন যে নির্বাচন ব্যতীত ক্ষমতার অধিকারী কোনো সাম্যবাদী রাষ্ট্র কি তার ভৌগোলিক পরিসরে অধিবাসী মানুষকে বামপন্থা অস্বীকার করার সুযোগ দেবে? গণতন্ত্র কিন্তু ক্ষমতাসীনের অন্যতম অঙ্গীকার।

কিন্তু ক্ষমতায় থাকা প্রতিটি ‘মতাদর্শ’ যেখানে বিশ্বাস করে যে কেবল তাদের পন্থাই ঠিক, সেখানে ভারতে স্বৈরাচারকেও আইনসম্মত ক’রে তুলতে প্রথমে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা প্রয়োজন। তা উল্লঙ্ঘন করার দায় দেশবাসীর সম্পূর্ণ নিজস্ব।

জাতীয় পতাকা আমরা বাড়িতে উত্তোলনের রাষ্ট্রীয় অনুরোধ পেতে পারি, আদেশ নয়। জনসমক্ষে আমরা নির্ভয়ে কেবল রাষ্ট্রযন্ত্র নয়, স্বদেশকেই অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা ক’রে হাস্যাষ্পদ ক’রে তুলতে পারি। সম্বোধন ক’রি ‘পোড়া দেশ’ ব’লে।

ঠিক সেজন্যই এখনও বহির্শত্রুর মুখে ‘দেশবিরোধী আলোচনা’ শুনে অধিকাংশ মানুষ বিরোধিতায় একত্রিত হয়। এই একটি ভূখণ্ডের অধিবাসীগণ শত সমস্যায় কেবল তাকে দায়ী ক’রলেও, অপরের মুখে অপ্রাপ্তির তালিকা শুনতে নিতান্ত অনিচ্ছুক।

২য় বিশ্বযুদ্ধের আশেপাশে জনৈক মিস্টার উইনস্টন চার্চিল ব’লেছিলেন যে তাঁদের অনুপস্থিতি ভারতীয়দের ক্রমান্বয়ে অধঃপতন ঘটাবে। নরমপন্থী নেতৃত্বের অন্যতম শ্রী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী তাকে মান্যতা দিয়ে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে অনড় থাকেন।

পণ্ডিতজী বিপাকে পড়েন। লৌহমানবের গুরুত্ব তখনও জাতীয় কংগ্রেস ততোখানি উপলব্ধি ক’রতে অক্ষম। চরমপন্থী আন্দোলনকে রাজনীতির অংশ হিসাবে দেখাই যথেষ্ট সমস্যার ছিলো। এ ব্যতীত জাতির পিতার বিরোধে তো বক্তব্য রাখাই অসম্ভব।

আজ স্বাধীনতার ৭৬বছর পরেও সম্ভবতঃ সেই মিস্টার চার্চিলই জয়ী হ’য়েছেন, সত্য হ’য়েছে শ্রী গান্ধীর শঙ্কাও। দুর্নীতি রাষ্ট্রযন্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেভাবে প্রবেশ ক’রেছে, তাতে শুভাকাঙ্ক্ষার পুনরাবৃত্তি ক’রতে কমপক্ষে তার একটি শতক প্রয়োজন।

কিন্তু তারপরেও ৩এর দশকে শ্রী জওহরলাল নেহরু পূর্ণ স্বরাজ দাবি ক’রতে পেরেছিলেন। তিনি ভবিষ্যৎদ্রষ্টা না হ’লেও ছিলেন সুযোগ্য রাজনীতিবিদ। দেশের এতোখানি সর্বনাশ তিনি কল্পনা ক’রতে না পারলেও, এসবের শুরু তো তাঁরই সঙ্গে হ’য়েছিলো।

কারণ সেদিন, “আংরেজ পেহলে হমারে ঘর সে বাহার নিকলে। ” বলা বাঙালি কন্ঠটিকে পরবর্তীকালে তিনিই তাইওয়ানের প্লেন দুর্ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে নীরব ক’রে দিয়েছিলেন। সে’ই আমাদের স্বাধীনতার প্রথম স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক উদযাপন…

এরপরেও প্রশ্ন থাকে যে আমাদের চিন্তা বন্দী নাকি মুক্ত? কারা এসবের জন্য দায়ী, কারাই বা নয়?

জয় হিন্দ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।